ঈশ্বরগঞ্জে বাবার কুড়ালের কোপে ছেলের মৃত্যু ‎

মো.  হুমায়ুন কবির ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: বাড়ির উঠোনে বৃষ্টিতে ভিজছিল বাবা নূরুল আমিন(৩৫)। বাবাকে বৃষ্টিতে  ভিজতে দেখে ছাতা নিয়ে যায় দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে মোবারক হোসেন(৮)। ছাতা মাথায় ধরতেই পাশে থাকা কুড়াল দিয়ে ছেলের মাথায় কোপ দেয় বাবা নূরুল আমিন। বাবার কোপের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছেলে মোবারক। ছেলের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন মোবারককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার  প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয় ছেলে মোবারক হোসেনের।

‎বুধবার (৩০ জুলাই) আনুমানিক বেলা ৩ টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মোবারক হোসেন ওই গ্রামের মো. নূরুল আমিনের ছেলে।

‎খবর পেয়ে এদিন সন্ধ্যায়  ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার  ও মোবারকের মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে থানায় নিয়ে যায় ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ।

‎নিহত মোবারকের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান,উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের  সোহাগি বাজারের স্বপ্নসিঁড়ি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল মোবারক হোসেন। দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে বাড়িতে এসে দেখতে পায় বাবা নূরুল আমিন বাড়ির উঠোনে বৃষ্টিতে ভিজছে। বাবাকে ভিজতে দেখে ঘর থেকে ছাতা নিয়ে যায় ছেলে মোবারক। মাথায় ছাতা ধরতেই পাশে থাকা কুড়াল দিয়ে ছেলেরর মাথায় কোপ দেয় বাবা নূরুল আমিন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার হাসপাতালে নেওয়ার পথে মোবারকের মৃত্যু হয়। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মোবারক বড়।

‎মোবারকের দাদা ইউসুফ আলী(৮০) বলেন,আমার ছেলে নূরুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভোগছিল। দুপুরে আমার নাতি  স্কুল থেকে এসে তার বাবাকেবৃষ্টিতে ভিজতে দেখে ছাতা নিয়ে যায়। এসময় পাশে থাকা কুড়াল দিয়ে আমার নাতির মাথায় কোপ দেয় আমার ছেলে। কেন কুড়াল দিয়ে কোপ দিয়েছে জানতে চাইলে ইউসুফ আলী বলেন,পাগলের কি কোন কারণ লাগে বাবাজি? কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দাদা ইউসুফ আলী। চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।


‎এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে নিহত শিশুর মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত বাবা অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার জন্য পুলিশ হেফাজতে ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *