শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক)ঃ যশোরের কেশবপুরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ২জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১জন আহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাতে যশোর টু চুকনগর মহাসড়কে উপজেলার আলতাপোল বুঝতলা নামকস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় জয়দেব সরকার (৫০) নামে স্বর্ণের কারিগরের মৃত্যু হয়েছে এবং গত বুধবার (২০ আগস্ট) ভোরে একই মহাসড়কের মধ্যকুল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল কাশেম (৭৫) নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।
খর্নিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের মনিন্দ্র সরকারের ছেলে জয়দেব সরকার (৫০) কেশবপুর বাজারে একটি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিনের ন্যায় গত মঙ্গলবার (১৯আগস্ট) রাতে তিনি দোকানের কাজ শেষে বাইসাইকেলের পিছনে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বেঁধে বাড়িতে ফেরার পথিমধ্যে যশোর টু চুকনগর মহাসড়কের আলতাপোল বুঝতলা নামকস্থানে পৌঁছাইলে চুকনগরগামী খুলনা মেট্রো হ-১৪-২৯৭০ নম্বরের একটি টিভিএস মেট্রো মোটরসাইকেল পিছনে অজ্ঞাতনামা একটি পিকআপ ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইসাইকেলের পিছনে ধাক্কা দেয়। ওইসময় বাইসাইকেল চালক জয়দেব সরকার মহাসড়কের উপর পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে এবং মোটরসাইকেল চালক শাওন হোসেন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত শাওন হোসেন (২৭) কে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক ছিলো। সে খুলনার লবণচরা থানার আবুল কাসেম এর ছেলে।
অপরদিকে, গত ২০ আগস্ট ভোরে যশোর-ট ১১-৫২৪২ নম্বরের একটি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক চুকনগর থেকে যশোরের দিকে যাওয়ার পথিমধ্যে মধ্যকুল এলাকায় পৌঁছাইলে পথচারী মধ্যকুল গ্রামের মৃত মান্দার গাজীর ছেলে আবুল কাশেম (৭৫) কে পিছন দিক থেকে ধাক্কা দিলে রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয়। ওইসময় ট্রাকের চালক পালিয়ে যায় এবং স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে খর্নিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুজ্জামান চানু বলেন, পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের নিহতের ঘটনায় মোটরসাইকেল ও ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে অজ্ঞাতনামা পিকআপটির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিহতদের মরদেহ উভয় পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।