শামীম আখতার, নিজস্ব প্রতিবেদক: কেশবপুরে মসজিদের মাইকে মিথ্যা তথ্য ঘোষণা দিয়ে মব সৃষ্টি করে পুলিশ সদস্যদের মরাপিট করে জাহাঙ্গীর আলম সরদার (৩৬) নামে এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাতে কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামে। ছিনিয়ে নেওয়ার পরে আসামি পালিয়ে গেলেও থানা পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় পরেরদিন সকালে কেশবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করেছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিজলডাঙ্গা গ্রামের আমিন উদ্দীন সরদারের ছেলে।
থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১লা এপ্রিল) গভীর রাতে কেশবপুর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক আসমত আলী সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে বিজ্ঞ আদালতের ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে আসার পথে পরিবারের লোকজন পুলিশ সদস্যদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা করে এবং আসামির আপন ভাই জামায়াত নেতা আলামীন সরদার বাড়ির পাশের মসজিদের মাইকে মিথ্যা তথ্য ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে জড়ো করে। ওইসময় মব সৃষ্টি করে আলামীনের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে হাতকড়া পরা অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওইসময় আহত পুলিশ সদস্যরা কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জরুরী বিভাগ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করে এবং হাবিবুল্লাহ নামে এক পুলিশ সদস্য গুরুত্বর আহত হওয়ায় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে, পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেননি পুলিশ।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালতের তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলম সরদারকে আটকের পর মব সৃষ্টি করে আসামীর পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী পুলিশের সদস্যদের মারপিট করে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। তাদের হামলায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক আসমত আলী, পুলিশ সদস্য শহিদুল ইসলাম ও হাবিবুল্লাহ গুরুত্বর আহত হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয় এবং হিজলডাঙ্গা গ্রামসহ আশপাশ এলাকায় পুলিশের অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকে। পরবর্তীতে কেশবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিকে আদালত প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের মারপিট করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্যে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।