শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক)ঃ কেশবপুর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অবৈধ নবগঠিত কমিটি প্রত্যাহারের দাবীতে সাধারণ শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল শনিবার (১৯ জুলাই) সকালে সাধারণ শিক্ষকদের আয়োজনে পৌরসভা সড়কের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
কেশবপুর অবৈধ গনতন্ত্র পরিপন্থী নবগঠিত প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির শাহীনুর রহমানকে সভাপতি এবং হাবিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করাই সাধারণ শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই কমিটি গঠন সম্পূর্ণ অবৈধ, ভোট বিহীন ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বলে সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষ দাবী করেন। বিশেষ করে কমিটিতে যাকে সভাপতি করা হয়েছে সেই শাহিনুর রহমানের মুখের ভাষা খুব অশ্লীল এবং নিয়মিতভাবে সাধারণ শিক্ষকদের সাথে খুবই আজেবাজে ভাষা ব্যবহার করা তার নিয়মিত অভ্যাস৷ সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষকগণের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাঁকার্বশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী। এসময় তিনি বলেন, গত ২৪ সালের ১৩ অক্টোবর কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী সমিতির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর গত চলতি বছরের ২৯ জুলাই সমিতির গঠনতন্ত্র না মেনে একটি অবৈধ কমিটি করা হয়েছে। নিয়ম অনুসারে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার নুন্যতম কোন যোগ্যতা নেই তাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। বিএনপি পন্থী শিক্ষকগণ বলেন, এই কমিটিতে বেশিরভাগ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারী শিক্ষকদের পূর্ণঃবাসন করে এই কমিটি গঠিত হয়েছে। সমিতির গঠনতন্ত্রে ৪৩ জন সদস্য বিশিষ্ট উল্লেখ থাকলেও ৫৩ জন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। শিক্ষকগণ আরও বলেন, এই অবৈধ কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে, মোবাইলের মাধ্যমে সাধারণ সহকারী শিক্ষদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
শিক্ষকরা বলেন, নবগঠিত কমিটির সভাপতি মুখের ভাষা অত্যন্ত যঘন্য। সমিতির সদস্যরা পৌর শহরে এসে তাদের মোটরসাইকেল সহ গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান মালামালের নিরাপত্তার জন্য সমিতির ঘরে রেখে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমান সভাপতি বিভিন্ন সময়ে সমিতির ঘরে তালা ও বাথরুম বন্ধ করে রাখেন। আরও বলেন এই অবৈধ কমিটির ১৬ জন সদস্য, আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিল এবং আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ভোটে অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাই সাধারণ শিক্ষকদের দাবি এই অবৈধ কমিটি বাতিল করে, গনতন্ত্রের মাধ্যমে ভোট দিয়ে নতুন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার দাবী জানিয়েছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক আমজাদ হোসেন, হজরত আলী, আব্দুস সাত্তার, আবুল কাশেম, আমির হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, খালিদ হাসান দীপু, আব্দুল্লাহ কাজল, কবির হোসেন সহ প্রায় শতাধিক শিক্ষকগণ। উল্লেখ্য, কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী সমিতিতে ৯৬৭ জন সদস্য রয়েছে।