গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (জিবিএ)এর উদ্যোগে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিনিধি আমেরিকা :  গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (জিবিএ)এর উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের ক্লোজড-ডোর পলিসি ডায়ালগ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার,১২ জানুয়ারী ২০২৬,রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরিতে আয়োজিত এই সেমিনারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশি নীতিবিদ, গবেষক, পেশাজীবী, প্রযুক্তিবিদ এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক ড. আবদুল মঈন খান। সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন দেশ ও বিদেশে পরিচিত প্রবীণ রাজনৈতিক মাহিদুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে জিবিএ”র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আহমেদ সোহেল বলেন, “গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, অরাজনৈতিক ও গবেষণাধর্মী সংগঠন, যা মাত্র তিন থেকে চার মাস আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিজান চৌধুরী, কাওসার চৌধুরী, মোহাম্মদ এ. সালেহ, ড. গোলাম রব্বানীসহ একদল বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের উদ্যোগে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।”

কি-নোট স্পিকারের বক্তব্য এই উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিবিদ ও জিবিএ-এর কো-চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী। তিনি জিবিএ-এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। টেকসই উন্নয়ন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে সুপরিকল্পিত নীতি প্রয়োজন।”

সম্মেলন সভাপতির বক্তব্য সম্মেলনের সভাপতি মাহিদুর রহমান বলেন, “এই পলিসি ডায়ালগ কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ নয়। এটি একটি দায়িত্বশীল, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী আলোচনা প্ল্যাটফর্ম।”

প্যানেল আলোচনা ও মডারেশন অনুষ্ঠানে অ্যামাজন ইকোনমি, কর্মসংস্থান উন্নয়ন, ইউএস–বাংলাদেশ ককাস, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও বৈশ্বিক আউটসোর্সিংসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একাধিক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল সেশনগুলোর নেতৃত্ব দেন জিবিএ-এর কো-চেয়ারম্যান কাওসার চৌধুরী। তাকে সহযোগিতা করেন ফায়েজ চৌধুরী ও মোহাম্মদ বিপ্লব।

এ গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জীবিএ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আহমেদ সোহেল, নাভিদ, মো. মনিরুজ্জামান এবং মুনাফ—যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রবাসী অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে মডারেট করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মুনির এবং বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মজলিস।

অরাজনৈতিক ও নীতিকেন্দ্রিক আয়োজন আয়োজকরা জানান, জীবিএ একটি অরাজনৈতিক ও নন-পার্টিজান সংগঠন। এই সংলাপটি সম্পূর্ণভাবে তথ্যভিত্তিক ও নীতিকেন্দ্রিক এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক লবিং বা প্রচারণা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও কমপ্লায়েন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই এই আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের পলিসি ডায়ালগ অব্যাহত থাকবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *