ছাত্রীদের আপত্তিকর ম্যাসেজ; অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আতাউর শাহ্, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ  কলেজ ছাত্রীদের আপত্তিকর ম্যাসেজ পাঠানোসহ অবৈধ সম্পর্কে জড়াতে চাপ প্রয়োগের ঘটনায় নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সামসুল হকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে কলেজের মূল ফটকের সামনে তার অপসারণের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন করে তারা। এর আগে ছাত্রীদের সাথে আপত্তিকর ম্যাসেজের বিভিন্ন স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। এসব স্ক্রিনশটে ছাত্রীদের ওড়না ছাড়াসহ বিভিন্ন সাজে দেখার আবদার করতে দেখা গেছে অধ্যক্ষ সামসুল হককে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যক্ষ সামসুল হক প্রায়ই নারী শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করার আবদার করতেন। এসব কৌশলে এড়িয়ে গেলে কলেজের রোভারসহ সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেন। শুধু তাই নয়, কলেজ থেকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেন। শিক্ষার্থী বলেন, শুধু এই কলেজেই নয় এরপূর্বে তিনি নওগাঁর বি এম সি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে সেখানের শিক্ষার্থীদের কৌশলে ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় যুক্ত হন। এরপর ফেসবুকে কোনো ছবি স্টোরি দিলে অশ্লীল মন্তব্য করতেন। এর একপর্যায়ে তাদের কাছে থেকে ওড়না ছাড়া ছবি চাইতেন। একজন শিক্ষকের মানসিকতা কতটা নোংরা হলে সে এই ধরনের অশ্লীল প্রস্তাব তার ছাত্রীদের দিতে পারে। আমরা অবিলম্বে অধ্যক্ষ সামসুল হককে বহিষ্কার করার দাবি জানায়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট গুলোতে দেখা যায়, অধ্যক্ষ সামসুল হক তার ছাত্রীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করছেন। প্রশংসার এক পর্যায়ে ছাত্রীকে সামসুল হক লেখেন, ‌‘আরও সুন্দরী ছবি আছে তোমার’। উত্তরে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আর নেই স্যার। আমি সুন্দর না। আমার যা মনে হয়’। তখন সামসুল হক লেখেন, ‘আছে আছে, ওড়না ছাড়া’। উত্তরে শিক্ষার্থী বলেন, ‘নেই স্যার, স্যরি স্যার’। তাৎক্ষণিক সামসুল হক বলেন, ‘কলেজে দেখেছি তো’। উত্তরে শিক্ষার্থী বলেন, ‘না স্যার। স্যরি। নেই স্যার। মাফ করবেন’। এরপর সামসুল হক বলেন, ‘ওকে, সামনেই দেখবো। অনেক অনেক অনেক ভালো থেকো। বাই’।

অপর এক স্ক্রিনশটে দেখা যায়, দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর ফেসবুকের স্টোরিতে শেয়ার করা ছবিতে ‘অতীব চমৎকার’ লিখে প্রশংসা করেছেন অধ্যক্ষ সামসুল হক। গত ৩১ মার্চে মেসেঞ্জারের নোটে ওই শিক্ষার্থী একটি হিন্দি গান সেট করে লেখেন, ‘কিছু মানুষের সাথে দূরত্ব হওয়া ভীষণ দরকার’। ওই নোটের রিপ্লাই দেন সামসুল হক। তিনি ওই শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করে লেখেন, ‘আমি কি তার মধ্যে?’। 

আলোচিত আরেকটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় এক ছাত্রীর প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে অধ্যক্ষ সামসুল হক বলেন, ‘নতুন বউ সাজে দেখা করলে না?’। উত্তরে ছাত্রী বলেন, ‘স্যার ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। স্টল থেকে বের হওয়ার সময় পাইনি। আজকে আমাদের স্টলে সবচাইতে বেশি সেল হইছে’। এরপর সামসুল হক লেখেন, ‘আমি তোমার বিউটি (সৌন্দর্য) থেকে বঞ্চিত হলাম’। উত্তরে ওই ছাত্রী বলেন, ‘কেন স্যার? দেখা হইছিল তো আপনার সঙ্গে। তবে আপনাকে অনেক অনেক থ্যাংক ইউ স্যার। এত সুন্দর একটা আয়োজন করার জন্য। আমরা অনেক এনজয় করেছি’। উত্তরে অধ্যক্ষ লেখেন, ‘আমাকে দেখা দিলে আমিও করতাম’। এবার জবাবে ওই শিক্ষার্থী লেখেন, ‘স্যরি স্যার, আজকে খুবই ব্যস্ত সময় কেটেছে’। এবার সামসুল হক প্রশ্ন করেন, ‘কবে দেখা দিবে ওই একই সাজে?’

এ বিষয়ে জানতে নওগাঁ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সামসুল হকের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *