নানান আয়োজনে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত এঁর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

শামীম আখতার, (যশোর) কেশবপুর: যশোরের কেশবপুরে নানা কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত এঁর ২০২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৫ জানুয়ারি সকালে কবির স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি মধুপল্লীর ভিতরে কবির আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন। পরে মধু মঞ্চে কবির “জীবন ও সাহিত্যেকর্ম” বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন, আলোচনা এবং মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ ‘সনেট’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এর সভাপতিত্বে মহাকবির “জীবন ও সাহিত্যেকর্ম” বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন। আলোচনা করেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, মধুসূদন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও মধুসূদন গবেষক কবি খসরু পারভেজ, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। কুইজ প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন যশোর জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকতা সাধন কুমার দাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিমল কুমার কুন্ডু।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) মোঃ রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক মহিদুল ইসলাম, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকদেব রায়, মধুপল্লীর কাস্টোডিয়ান হাসানুজ্জামান।

আলোচনা সভা শেষে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শুধু তাই নয়! কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই সর্বপ্রথম জেলা প্রশাসন একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জেলা প্রশাসনের এমন মহতি উদ্যোগ সত্যিই খুবই প্রশংসনীয়।

মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার আয়োজন করা হয়। কবির জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি সাজানো হয় এক বর্ণিল সাজে। মেলা শুরুর দিন থেকেই মহাকবির স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদ পাড়, বুড়ো কাঠবাদাম তলা, বিদায় ঘাট, মধুপল্লীসহ মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার দর্শনার্থী ও মধুপ্রেমীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে। দর্শনার্থী ও মধুপ্রেমীদের বিনোদনের জন্য মধুমঞ্চে প্রতিদিনই মহাকবির স্মৃতিময় জীবনী নিয়ে দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিকদের আলোচনা ও দেশবরেণ্য খ্যাতনামা শিল্পীদের গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। এছাড়াও বাড়তি বিনোদনের জন্য প্যান্ডেলে যাত্রাপালা, সার্কাস, জাদু প্রদর্শনী ও মৃত্যুকূপ এর ব্যবস্থা। এছাড়াও শিশুদের জন্য নাগরদোলা, ট্রেন, নৌকা সহ শিশু বিনোদনের নানা আয়োজন। কিন্তু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার আয়োজন করা জেলা প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে সুবিধাজনক সময়ে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের ক্ষনজন্মা মহাপুরুষ, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

জমিদার পিতা রাজনারায়ন দত্ত এবং মাতা জাহ্নবী দেবীর কোল আলোকিত করে পৃথিবীতে মহাকবি আর্বিভূত হন। ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন কলকাতার আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন (অর্থাভাবে) অবস্থায় মাত্র ৪৯ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *