সাইফুল্লাহ নাসির, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়কে এখনো গড়ে ওঠেনি হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম। ফলে এ সড়কটি থাকে অরক্ষিত। দখিনের সবচেয়ে দীর্ঘ বরিশাল-বাখেরগন্জ-দুমকি-পটুয়া খালী-আমতলী-কলাপাড়া শহর ছাড়াও এ অঞ্চলে রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনা। এই মহাসড়কের দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র ব্যস্ততম মহাসড়ক,এই সড়কের প্রধান ৩টি অংশে (বরগুনা জেলা,পায়রা সমুদ্র বন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে,কলাপাড়া ও তালতলীতে রয়েছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র) প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী পর্যটক শত শত পণ্যবাহী গাড়ি চাকুরীজীবী ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে অথচ এই মহাসড়কে নেই কোন হাইওয়ে থানা,ফলে দুর্ঘটনা যানজট চাঁদাবাজি ডাকাতির কারণে সড়কে নিরাপত্তা সংকটে পড়তে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় এই মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ঘটে সড়কে দুর্ঘটনা কিন্তু নেই কোন দ্রুত উদ্ধার কার্যকর ব্যবস্থা ফলে প্রানহানি ও ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে অবিলম্বে কুয়াকাটা মহাসড়কে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ,তাদের মতে হাইওয়ে থানা হলে স্পিড গান উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম সড়কে অপরাধ নির্মুল যানজট নিরসনের মাধ্যমে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে সহজ হবে তেমনি পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটন কে আরো গতিশীল করতে এবং নিরাপদ মহাসড়ক নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কের হাইওয়ে থানা এখন সময়ের দাবি।
ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল জোনের আওতায় রয়েছে ১ হাজার ৬০৩ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়ক। যার মধ্যে রয়েছে তিনটি জাতীয় মহাসড়ক, ৭টি আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ৬১টি জেলা মহাসড়ক। এই বিশাল দৈর্ঘ্যের সড়কের মধ্যে মাত্র ৩২ কিলোমিটারের একটু বেশি মহাসড়ক দেখভাল করছে হাইওয়ে পুলিশ কিন্তু পটুয়াখালী থেকে আমতলী ৩৭ ও আমতলী থেকে কুয়াকাটা ৪৭ কিলোমিটারে দায়িত্ব পালনের জন্যেও নেই হাইওয়ে থানা প্রয়োজনীয় গাড়ি, উদ্ধার সরঞ্জামের রেকার,এমনকি দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছার জন্য পুলিশের নিজেদের যাতায়াতের গাড়িরও বেহাল দশা। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা ও আমতলী থেক বরগুনা পর্যন্ত প্রায় ৯৮ শতাংশ সড়কে নেই হাইওয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধানে। আর এসব সংকটের কথা স্বীকার করছে হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়াটার্স।
জানা গেছে, বরিশাল বিভাগ বরিশাল ও পটুয়াখালী দুটি সড়ক সার্কেলে বিভক্ত। এর মধ্যে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা জেলার সড়ক মিলিয়ে বরিশাল সড়ক সার্কেল এবং পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সড়ক মিলিয়ে পটুয়াখালী সড়ক সার্কেল গঠিত। দুই সার্কেলের মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬০৩ দশমিক ৯৪ কিলোমিটারের মধ্যে বরগুনা ও পিরোজপুর ব্যতীত ৪ জেলায় মোট জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে ১২৭ দশমিক ৯৮ কিলোমিটার। এছাড়া ৬ জেলায় আঞ্চলিক মহাসড়ক রয়েছে ২৯০ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৮৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার।
চ্যানেল আমতলীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আমতলী সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাইফুল্লাহ নাসির বলেন পটুয়াখালী থেকে বরগুনা পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা এই তিনটি উপজেলার সমন্বয়ে উক্ত মহাসড়কটিতে হাইওয়ে থানা স্থাপনের মাধ্যমে কার্যক্রম হলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমন রাস্তায় অবৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করে যানজটের সৃষ্টি করা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাজার হাজার যাত্রীদের কল্যাণে হাইওয়ে থানা স্থাপন অতীব জরুরী।
দৈনিক কালবেলা সাংবাদিক আমতলী প্রতিনিধি মনির হোসেন বলেন পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক শত শত যানবাহনে চলাচল করে যার যার ব্যবসা বাণিজ্য চাকরির ক্ষেত্রে কর্মস্থলে যান তাদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা স্বার্থে এই মহাসড়কটিতে হাইওয়ে থানা স্থাপন খুবই জরুরী।
দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ আমতলী প্রতিনিধি এইচ এম রাসেল বলেন পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলির ৩৭ কিলোমিটার অংশে রাস্তায় ১৭ টি বাক থাকার কারণে প্রায় ঘটছে বড় বড় সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি কার্যকর উদ্ধার ব্যবস্থা না থাকায় দুরবিসহ জনদুর্ভোগ এড়াতে হাইওয়ে থানা স্থাপনের কোন বিকল্প নেই।