পত্নীতলায় লাম্পি স্কিন রোগে শত-শত গরু আক্রান্ত

মোহাম্মদ আককাস আলী প্রতিনিধি নওগাঁ মহাদেবপুরঃ নওগাঁর পত্নীতলায় লাম্পি স্কিন রোগে শত শত গরু আক্রান্ত হওয়ায় খামারি ও গরুর মালিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা ও ওষুধ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রমও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) এক ধরনের চর্মরোগ। এ রোগ হলে গরুর মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। এটি ভাইরাস জনিত ছোঁয়াচে রোগ। গরু-বাছুর প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয়। একপর্যায়ে খাওয়া বন্ধ করে দেয়। জ্বরের সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে লালা পড়ে এবং পা ফুলে যায়। শরীরের বিভিন্ন জায়গার চামড়া পি- আকৃতি ধারণ করে, লোম উঠে যায় এবং ক্ষত সৃষ্ট হয়। এই ক্ষত শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। গরু ঝিম মেরে কাঁপতে শুরু করে। এতে গরুর কিডনির ওপর প্রভাব পড়ার ফলে আক্রান্ত গরু মারাও যায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নিবন্ধিত গবাদিপশুর খামার রয়েছে ৭২ টি এবং অনিবন্ধিত রয়েছে ৪১ টি। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা এক লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ টি, মহিষ ৪৫ টি, ছাগল ২ লাখ ৫৫ হাজার এবং ভেড়া ৪৫ হাজার প্রায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নজিপুর পৌরসভাসহ ১১ ইউনিয়নে লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বেশি আক্রান্ত হয়েছে মাটিন্দর ও আকবরপুর ইউনিয়নে। গত দুই মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গৃহপালিত পশু পালনকারী ব্যক্তির ও খামারীদের বিভিন্ন বয়সী গরুর মৃত্যু হয়েছে। গরুর মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
 উপজেলার মাটিন্দর ইউনিয়নের শাশইল গ্রামের মিলন হোসেনের দুইটি, মোদাচ্ছের হোসেনের দুইটি, রেজাউলের একটি, রমজানের একটি, কামরুজ্জামানের একটি,
পত্নীতলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশীষ কুমার দেবনাথ জানান, ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারী হাসপাতালে সরকারিভাবে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগ প্রতিরোধক টিকা বর্তমানে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। গত দুই-তিন মাস আগে এ বরাদ্দ না পাওয়ায় সচেতন খামারি ও ব্যক্তিগত পশু পালনকারীরা নিজেস্ব অর্থায়নে বেসরকারি টিকা দোকান থেকে কিনতে হয়। টিকার দাম বেশি হওয়ায় অনেকের পক্ষে এই টিকা কিনে গরুকে দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আক্রান্ত গরু দুর্বল হয়ে পড়া অবস্থায় এ টিকা দিলে গরুর মৃত্যু হতে পারে। এ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গরুকে মশারীর ভিতর রাখতে হবে। এছাড়াও প্যারাসিটামল ও সোডিয়াম বাই কার্বনেট ট্যাবলেট এবং ভিটামিন খাওয়ানো যেতে পারে।
সরকারি ভাবে প্রথম দিকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যারা নিজেদের গরুকে প্রতিরোধক টিকা দিয়েছেন, তাদের গরু সুস্থ আছে। আর যারা টিকা দিতে পারেননি তাদেরই গরু আক্রান্ত হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *