মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থল বন্দরের অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীর কারনে শুল্ক ফাকি থামছে না। বার বার বিভিন্ন কলা কৌশলে এসব কর্মকর্তাদের সাথে বন্দরের শেডে শুল্ক ফাঁকি সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে আনলোড করে। তবে এসব ব্যবসায়িরা শুধু বেনাপোল স্থল বন্দরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে না এরা কাস্টমসকেও ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাকি দিয়ে পণ্য নিয়ে যায়। গতকাল ৫ এপ্রিল ও খাজা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সিএন্ড এফ প্রায় কোটি টাকার শুল্ক ফাকি দিয়ে পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় জাতিয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএস আই) এর তথ্যের ভিত্তিতে আটক হয়।
সুত্র মতে ভারত থেকে পণ্য আমদানির পর প্রথমে স্থল বন্দরের গোডাউনে রাখা হয়। সেখান থেকে কাস্টমস পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পণ্য ছাড় দেয়। যত বার এই স্থল বন্দর অথবা কার্গোভেহিকেল মাঠে অথবা রাস্তা থেকে পণ্য আটক হয়েছে সব জাতিয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে। অথচ কাস্টমস এর রয়েছে নিজস্ব গোয়েন্দা টিম। তাদের জনগনের ট্যাক্সের টাকায় বেতন ভাতা দেওয়া হলেও সাফল্য জিরো।
গত রোববার (৫/০৪/২৬) স্থল বন্দরের খাজা এন্টারপ্রাইজের খাতা কলমে পাওয়া যায় ২৬০ প্যাকেজ। সেখানে বাস্তবে পাওয়া যায় ২৬৭ প্যাকেজ। যাতে রয়েছে ঘোষনা বহির্ভুত ৬৭৯ পিছ শাড়ি। ওই পণ্য প্রায় কোটি টাকা শুল্ক ফাকি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছিল। পণ্য চালানটি যখন বন্দরের ১৯ নং শেডে নামে তখন বুঝে নেন ওই শেডের ইনচার্জ সোহেল রানা। তাহলে বুঝা যায় শেড ইনচার্জ এর সাথে সরাসরি জড়িত। অথবা তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এ পণ্য আনলোড করেছে।
স্থল বন্দরের ১৯ নং শেডে হাফিজুর রহমান ও সোহেল রানা নামে দুই জন শেড ইনচার্জ ছিলেন। হাফিজুর রহমান বলেন আমি এই শেডে ৩ এপ্রিল জয়েন করেছি। আর ওই পণ্য এসেছে গত ৩১/০৩/২৬ তারিখ।
এছাড়া ও গত ১২ মার্চ স্থল বন্দরের ৩৭ নং শেডে বেকিং পাউডারের পরিবর্তে ৬ কোটি টাকার শাড়ি থ্রি পিছ শুল্ক ফাকি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্র¯ুÍতিকালে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আটক হয়। তার আগেও ১৫ নং শেড থেকে গত ১০ মার্চ ১৭ টন পাটের বীজ ঘাষের বীজ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে একই সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আটক হয়। তাহলে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক কাস্টমস কি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে? ১৯ নং শেডে জনৈক একজন সিএন্ডএফ কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন কাস্টমস পরীক্ষা করে কতদুর ঘুষ আদায় করা যায়।