মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল থেকে: এককজন আদর্শ নেতার অবশ্যই উচ্চ নৈতিক মানদন্ড এবং সততা থাকতে হবে যাতে তার দল তাকে বিশ্বস করতে পারে যে, সে জনগনের জন্য নি:স্বার্থ কাজ করতে পারে। নিজের চাওয়া পাওয়ার উর্দ্ধে থেকে যিনি সমাজের মানুষের জন্য কাজ করবেন তিনি হবেন একজন আদর্শ নেতা।এছাড়া নেতৃত্ব হলো এমন একটি গুণ, যা মানুষকে তার আচরণের মাধ্যমে প্রভাবিত করে সুসংগঠিতভাবে নির্দিষ্ট ল্য অর্জনে সহযোগিতা ও আত্মবিশ্বাস আর প্রত্যয়ের সঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। এমনি একজন নেতা এই জনপদে জন্মগ্রহন করেছেন যিনি চাওয়া পাওয়ার উর্দ্ধে থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার নাম মফিজুর রহমান সজন। যাকে একনামে সজন বা সজন সাহেব নামে সকলে চেনে জানে।
বেনাপোল স্থল বন্দরের উন্নয়ন বানিজ্যেও প্রসার এবং ব্যবসাীয়দের যৌক্তিক দাবি আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে বানিজ্য সংগঠন সিএন্ডএফ এজেন্ড এ্যাসোসিয়েশন এর সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন একটি পরিচিত অগ্রনী নাম। তিনি বিশেষ করে করোনার সময়ে অক্সিজেন আমদানি এবং বেনাপোল স্থল বন্দর সুশৃঙ্খল পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার ভুমিকা পালন করেন। সজন ছিলেন অন ইলেভেনের সময় তিন বছর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিএন্ডএফ বেনাপোল। এরপর তিনি সাবেক সভাপতি শামছুর রহমান এর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করে বিজয়ী হয়ে একটানা ৯ বছর সভাপতি পদে। গড়ে তিনি বারো বছর ছিলেন সিএন্ডএফ সভাপতি। তিনি বেনাপোল উন্নয়ন পরিষদ এর সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সিএন্ডএফ এজেন্ড ফেডারেশন এর সভাপতি, স্থল বন্দর এফবি সিসিআইর স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভারত বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সদস্য।
তৎকালীন উন্নয়ন পরিষদ এর দাবি ছিল বেনাপোল পৌরসভা গঠন,বেনাপোল পূর্নাঙ্গ স্থল বন্দর গঠন বেনাপোল কাস্টমস হাউস গঠন সহ ভিত্তি স্থাপন, বেনাপোল রেল লাইন চালু করন আই সিডি টার্মিনাল এবং ইয়ার্ড করা, এশিয়ান হাইওয়ে ৬ লেন করা, বেনাপোলে ১০০ সহ্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মান করা।
তার এই দীর্ঘ সময়ে সভাপতি থাকাকালীন সময়ে কাস্টমস এবং স্থল বন্দরের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ওই সময়ে সজন সাহেব এই বেনাপোলকে উন্নয়নের শিখরে পৌছে দিতে বেনাপোল চেকপোষ্টে বসে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যেমে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও সেদেশের প্রধান মন্ত্রী নরেনদ্র মোদির সাথে ও কথা বলেন। তিনি উন্নয়ন পরিষদ এর সভাপতি থাকাকালিন বেনাপোল পৌরসভা দাবি, বেনাপোল কাস্টমস হাউস করার দাবি, বেনাপোল রেললাইন চালুর, বেনাপোল স্থল বন্দরকে পৃথক করার জন্য এবং একটি হাসপাতাল এর জন্য ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করেন। এর মধ্যে শুধু মাত্র বেনাপোল হাসপাতাল নির্মান বাদে সবকয়টিতে সাফল্য অর্জন করেছেন। এগুলো বাস্তবায়ন এর কৃতিত্ব একমাত্র তারই।
এছাড়া তার উন্নয়নমুখি আন্দোলনে বলতে গেলে একক ভাবে বেনাপোল চেকপোষ্টের বিজিবি গেট, রৌদ বৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে এবং বিশ্রামের জন্য পাসপোর্টযাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক প্যাচেঞ্জার টার্মিনাল নির্মান এবং মালায়েশিয়ার মত অত্যান্ত আধুনিক কার্গোভেহিকেল মাঠ নির্মান হয়েছে।তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদ বেনাপোল আসলে তার গাড়ি থামিয়ে তিনি বেনাপোল চেকপোষ্ট থেকে বলফিল্ড পর্যন্ত ৪ লেন সড়ক এর দাবি তোলেন। তার সেই দাবির মুখে ৪ লেন সড়কও বাস্তবায়িত হয়েছে।
বাইপাস সড়কের পাশে তারই দাবির মুখে ১০০ একর জমির উপর ওয়াল্ড ব্যাংকের ৩০০০ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রজেক্টের কাজ এখন প্রক্রিয়াধীন।
মফিজুর রহমান সজন ছিলেন শার্শা উপজেলা বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর একজন দক্ষ সংগঠক। তিনি উপজেলার সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও যশোর জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। আওয়ামী সরকারের সময় তিনি বিএনপির একজন নেতা হয়েও বেনাপোল পৌরসভায় তিনি মোবাইল প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি এই পৌর সভায় ব্যাপক ভোট পাওয়া সত্বেও তাকে কারচুপির মাধ্যেমে তৎকালীন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকার পরাজিত করে। হয়েছিল। সে শার্শা উপজেলায় একজন দক্ষ রাজনীতিবীদ হিসাবে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের আইকন হিসাবে পরিচিত। তাকে আসন্ন পৌর নির্বাচন হিসাবে দল যদি বিবেচনা বিচার বিশ্লেষন করে মনোনায়ন দেন তাহলে তিনি একমাত্র দায়িত্বশীল ব্যাক্তি যিনি এই শহরের পৌরসভা কাসটমস, পোর্ট সবকিছু সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
আসন্ন পৌর নির্বাচন উপলক্ষে যে কয়জন প্রার্থী ইতিমধ্যে নির্বাচন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে তার মধ্যে সাধারন জনগন বিএনপির এই নেতাকে পৌর মেয়র হিসাবে দেখতে চায়। এর কারন তিনি এই জনপদের সকল উন্নয়নমুখি কার্যকলাপে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন। তার নিজের চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। তিনি এই জনপদের মানুষের সেবা সঠিক ভাবে করতে পারবেন বলে সাধারন জনগন মত প্রকাশ করেছেন। সজন, ভারতে করোনার প্রকোপের সময় যখন আমদানি বন্ধ ছিল তখন তিনি অক্সিজেন আমদানি সচল রাখার বিষয়ে জোরালো ভুমিকা পালন করেন।এবং স্থল বন্দর সচল রাখার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে গেছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আদর্শ পরিবার , সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে যোগ্য নেতৃত্বের ভুমিকা অপরিহার্য। সঠিক নেতৃত্বের ফলে একটি জাতি তার অর্থনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক ধর্মীয় রাজনৈতিক সহ সব ক্ষেত্রে উন্নতির চুড়ান্ত শিখরে আরোহন করতে পারে। আবার দুর্বল বা অযোগ্য নেতৃত্ব জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসে। দুর্বল শাসক এবং শ্বৈরাচার মনোভাবাপন্ন শাসক একটি সুশৃঙ্খল জাতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। তাই এই জনপদের মানুষের একটাই দাবি ত্যাগি উন্নয়নমুখি এবং দুঃসময়ে পাশে থাকা মানুষটি একমাত্র মফিজুর রহমান সজন। তাকে আগামি পৌর নির্বাচনে মনোনায়ন দিলে একদিকে উন্নয়ন অন্যদিকে অন্যায় অত্যাচার থেকে মুক্ত থাকবে বেনাপোল শহর।
যশোর বেনাপোল মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নয়ন করার জোর দাবিদার ছিল এই সজন। তিনি ওই সময় মানব বন্ধন গনস্বাক্ষর ও সংবাদ সম্মেলন ও করেন। তার সেই দাবি আজ বাস্তবায়ন হতে চলেছে। তিনি বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশন ও বন্দর ব্যবহারকারী ৭ টি সংগঠন নিয়ে গনস্বাক্ষর ও মানববন্ধন করেন। তিনি সে সময় ১২ হাজার মানুষের গনস্বাক্ষর নিতে সক্ষম হয়। কারন বেনাপোর বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেন। এই সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় আমদানি পণ্য নিয়ে যায় ট্রাকে করে। সেই সুবাদে সড়কটি ৬ লেনে আনলে আমদানি রফতানি আরো বাড়বে ও সরকারের রাজস্ব আয়ও আগের চেয়ে দ্বিগুন হবে এর আলোকে সে সময় তার নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। তার যৌক্তিক দাবি ছিল যশোর – বেনাপোল মহাসড়কের দু’পাশে রয়েছে প্রাচীন গাছ। ওই গাছ গুলো কেটে মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নতী করলে এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে হবে সমৃদ্ধশালী।