বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটনে এনবিআর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পৃথক তদন্ত কমিটি

আনিছুর রহমান, বেনাপোল: দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনে। বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গঠিত হয়েছে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। দ্রুত ও নিরপে তদন্তই এখন মূল ল্য।”

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনাপোল বন্দরে শুল্ক ফাঁকির নানা চিত্র প্রকাশ হলে নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। এরপরই মাঠপর্যায়ে নামে তদন্ত দল। গত শনিবার (২৩ আগস্ট ২০২৫) থেকে তারা সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর নিজস্ব টিমও কাজ শুরু করেছে। চলছে মেনিফেস্ট যাচাই, চালান বিশ্লেষণ এবং কাস্টমস কার্যক্রম মনিটরিং।

তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দীর্ঘদিন ধরে জাল ও পুনঃব্যবহৃত মেনিফেস্ট ব্যবহার করে উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাস করা হচ্ছিল। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে  বৈধ ব্যবসা।

তদন্ত কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- যুগ্ম সচিব মো. ফিরোজ আহমেদ, যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা এবং সিনিয়র সহকারী সচিব সুলতানা সালেহা সুমি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাসে একাধিক মেনিফেস্ট পুনঃব্যবহারের জোরালো প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র কাস্টমস ও বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্ম চালিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, আমরা নিয়ম মেনে শুল্ক পরিশোধ করলেও পণ্য ছাড় পাই না। এতে বৈধ ব্যবসা মার খাচ্ছে।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু আরও বলেন, “চোরাই পথে আসা পণ্য কম দামে বিক্রি হওয়ায় আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে বৈধ ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে।”

এদিকে তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আবুল ইসলাম মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করলেও, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত দলের এক সদস্য সাফ জানিয়ে দেন “যারা এই রাজস্ব ফাঁকিতে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের আওতায় আনা হবে সবাইকে।”

সরকারি রাজস্ব সুরায় গৃহীত পদপে এখন দেখার বিষয় এই সিন্ডিকেটের লাগাম কতদূর টানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *