ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

মাগুরা প্রতিনিধি খন্দকার নজরুল ইসলাম মিলন : মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইর ইউনিয়নের পাকা খর্দ্দ ৩১ নং, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা আফরিনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
তাসলিমা আফরিন দীর্ঘ ১৯ বছর সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সহকর্মী শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পুকুর ইজারা দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, টেন্ডার ছাড়া পুরাতন বেঞ্চ, ফ্যান, লোহার পাইপসহ অন্যান্য মালামাল বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও স্ক্যানার ব্যক্তিগত কাজে নিজের বাড়িতে ব্যবহার করেছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের মেয়েকে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি না করিয়েও উপবৃত্তির টাকা নিয়মিত উত্তোলন করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার মেয়ে মাইমুনা তাইফা বর্তমানে মাগুরার শুভেচ্ছা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছেন, অথচ পাকাখর্দ্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশনে তার নাম নেই।
নিলাম ছাড়া বিদ্যালয়ের পুরাতন মালামাল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তাসলিমা আফরিন বলেন, “আমি জানতাম না এগুলো বিক্রি করতে হলে নিলাম করতে হয়। পরে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবু সায়েমকে জানালে তিনি বলেন, বিক্রির টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের আপ্যায়নের জন্য কাপ, প্রিচ ও খেলনা কিনতে।
ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও স্ক্যানার নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, ল্যাপটপ ও প্রিন্টার তার বাসায় আছে, আর স্ক্যানার আলমারিতে। তবে আলমারিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি, পরে তিনি দাবি করেন স্ক্যানারটি হয়তো চুরি হয়ে গেছে যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের অভিযোগ রয়েছে।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবু সায়েম বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানতাম না। দু’দিন আগে আমাকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য বশির আহমেদ এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, “আমাদের কাছেও অভিযোগ আছে, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন, “তার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ ছিল। সহকারী শিক্ষকদের মূল্য দেন না এবং একরকম গায়ের জোরে সবকিছু করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আসাদুজ্জামান খান জানান, “অভিযোগগুলো আমি সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *