রাজাকারদের পূর্ণবাসন কিভাবে হলো বাংলাদেশে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বহমান রক্ত ধারা

ডেক্স খবর: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে দেশের। পুনরায় রাজাকার প্রতিষ্ঠার কর্মজঙ্গ শুরু করে একদল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি এ.এস.এম সায়েম একটি অধ্যাদেশ জারি করেন ১৯৭৬ সালের ৩রা মে এবং এই জারির দারা বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

সে সময় মি. সায়েম রাষ্ট্রপতি পদে থাকলেও কিন্তু ক্ষমতার মূল চাবি নারছিলেন জিয়াউর রহমান।

১৯৭৬ সালের ২৪শে আগস্ট রাজাকার জামায়াতে ইসলামীরা এবং আরো কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামের একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরী করে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসেন রাজাকার বাহিনী।

১৯৭৯ সালের নির্বাচনে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের ব্যানারে রাজাকার জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতা অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয়লাভ করেন।

রাজাকার জামায়াতে ইসলামীর নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে প্রথমবারের মতো সুকৌশলে ডুকেপরে ঐ জিয়াউর রহমানের হাতধরে। কথিত আছে স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের নিকট তথ্য পাচা করত বলে তাকে সেক্টর কমাণ্ডার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এজন্যই বাংলাদেশের সাধারণ কিছু মানুষ জিয়াউর রহমানকে রাজাকারের ২য় জন্মদাতা বলে থাকে।

* জিয়া সেনাপ্রধান হয়ে নিজ সেনাবাহিনিতে চেইন অব কমান্ড ফেরাতে পারেনি।

জিয়া সাহেব যাদের দারা খুনি করিয়ে ছিলো জাতির পিতাকে সেই ফারুখ রশীদরা সেনাপ্রধান জিয়াকে গুনতো না বলে জানা যায়।

জিয়া সাহেবের অধীনস্থ খুনি ফারুক, রশিদের পা পর্যন্ত চাটতো রাষ্ট্রপতি হবার জন্য শুধু তাই না বহিস্কৃত সেনা সদস্যরা পর্যন্ত জিয়াকে গুনতো না বলে জানা যায়।

খালেদা জিয়া ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হবার পর নিজ দলের নেতাকর্মীরাই খালেদাকে গুনেননি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি এক বছরেও, বিএনপির নেতাকর্মীদের লুটপাট, ধর্ষণ ঐ পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো যে খালেদার বাড়িতে ঢুকার সুযোগ পেলে খালেদার বাড়িতেই লুটপাট, ধর্ষণ হতো।
বিএনপির নেতারা তো বলেই দিয়েছিলো “বিজয়ের আমেজে এরকম একটু আধটু হয়েই থাকে।”

খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী নামিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করলে দেখা গেলো সব বিএনপির লোক ধরা খাচ্ছে, মাইর খাচ্ছে অপরাধী হিসেবে, এখানেও খালেদা ব্যর্থ হয় দলের নেতাকর্মীদের কাছে, নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছে বাধ্য হয়ে খালেদা জিয়া সেনাবাহিনী উঠিয়ে নেয়।

*দুর্নীতির বরপুত্র, গ্রেনেড হামলাকারী, পাকিস্তানের মাফিয়া দাউদ ইবরাহিমের বন্ধু, জঙ্গি মুফতি হান্নানের রাহবার, অস্ত্র চোরা কারবারি হিসাবে খ্যাতো তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছে।

সব দুর্নীতিবাজ, গ্রেনেড হামলাকারী, মাফিয়া, জঙ্গি, বোমা হামলাকারী, অস্ত্র পাচারকারী মুক্ত হয়েছে। এখন এদেশের সাধারণ মানুষ মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ফেলবে।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় বসে যুদ্ধাপরাধী, পাকিস্তানি দালালদের নিঃশর্ত মুক্তি দিয়েছিলো, সাত খুন মামলার আসামি সফিউল আলম প্রধানকে মুক্তি দিয়েছিলো, সরাসরি জাতির পিতার খুনিদের ও জেল হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছিলো এবং সবাইকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলো।

খালেদা ক্ষমতায় এসে সব অপরাধীদের মুক্তি দিয়েছিলো, নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী জাকির খান হত্যার দায়ে জেলে ছিলো তাকেও মুক্তি দিয়েছিলো, একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও সন্ত্রাসী সগিরের কবরে/লাশের উপর ফুল দিতে গিয়েছিলো মন্ত্রীদের নিয়ে।

তারেক ক্ষমতায় আসার পরের দৃশ্য আপনাদের চোখের সামনেই, একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপরাধীই এখন প্রধানমন্ত্রী, সে নিজে অপরাধীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবে দূরে থাক নৈতিকতাও তো তার নাই বলে মনে করছেন সাধারণ সচেতন মানুষ।
এত বড় অপরাধী ব্যক্তি কি কোন অপরাধের জন্য কাউকে বিচার করতে পারে বলুন।

তারেক তার পিতামাতার রক্ত বহন করছে যে পিতামাতার হাতই রক্তে রঞ্জিত, যে পিতামাতা এদেশে অপরাধ প্রতিষ্ঠিত করেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয় বলেই তো তারেকের মতো একজন ক্রিমিনাল প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছে। আর আপনারা আশা করছেন একজন ছাত্রকে পেটানোর অপরাধে বঙ্গবন্ধুর খুনি জিয়ার সন্তান, সার ও বিদ্যুতের দাবিতে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করা খালেদার সন্তান, গ্রেনেড হামলাকারী তারেক বিচার করবে? তারেকের নৈতিকতাও নেই বিচার করার।

তারেক, তারেকের পিতা , তারেকের মাতার অপরাধের কাছে এই অপরাধ তো দুধের শিশু।

কোন নৈতিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক বিচার করবে বলে সাধারণ জনগনের ধারনা। সাধারণ জনগন কীভাবে আশা করেন তার শরীরে বহমান রক্ত থেকে ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *