মো: আনিছুর রহমান বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সদস্য মনিরুজ্জামান (৩৭) ও রাকিব হোসেন (২২) নামে দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় একটি চোরাই মোটরসাইকেল, বিভিন্ন জেলার ভুয়া নম্বর প্লেট, মাস্টার চাবিসহ চুরি কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন সাতীরা জেলার শ্যামনগর থানার ছোট ভেটখালীর বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান (৩৭) ও বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলার মো. রাকিব হোসেন (১৯)।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শার্শা থানার একটি দল রাত্রিকালীন টহলে থাকাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শেখ আল আমিনের নেতৃত্ব নাভারণ-সাতীরা মোড়ে অবস্থিত রাবেয়া সুপার মার্কেটের নিচতলায় ‘শফি মোটরস ওয়ার্কসপ’ নামে একটি গ্যারেজে অভিযান চালায়। অভিযানে দুই যুবককে একটি মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ খুলতে দেখা যায়। পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে একটি নীল রঙের ইয়ামাহ এফ জেড ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল (রেজি: খুলনা মেট্রো-ল-১৩-৭২৯৫), একটি ডিজিটাল নম্বর প্লেট, একটি টিনের নম্বর প্লেট, ১১টি কম্পিউটার প্রিন্ট করা লেমিনেটেড নম্বর প্লেট, দুটি মোটরসাইকেলের চাবি এবং লোহার রড দিয়ে তৈরি একটি ‘টি’ আকৃতির মাস্টার চাবি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পরে মোটরসাইকেলটির মালিক খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. এনায়েতুল ইসলাম জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তার মোটরসাইকেল শনাক্ত করেন। তিনি জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে মোটরসাইকেলটি চুরি হয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মনিরুজ্জামান স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। খুলনা, সাতীরাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে যশোরের শার্শা থানার নাভারণ রেলবাজার এলাকার একটি গ্যারেজে এনে যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করা হতো। এ চক্রের মূলহোতা হিসেবে শফিয়ার রহমান (৪৩) ও খলিল গাজী (৪৬)-এর নাম উল্লেখ করেছে পুলিশ। তারা বর্তমানে পলাতক।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮০/৪১১/৪১৩/৩৪ ধারায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মারুফ হোসেন জানিয়েছে, আটক দুইজন আসামিকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং শার্শা থানা এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই যন্ত্রাংশ বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে।