মো: আনিছুর রহমান বেনাপোল প্রতিনিধি:
এবছর যশোর এর শার্শা উপজেলায় ২৬৯৪২ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ৪০০ হেক্টর ফসলের জমি বর্ষার পানিতে বিনষ্ট হয়েছে। কৃষি অফিসের পরিসংখ্যানে ধান, পাট, সবজি আবাদ জমি গুলোয় টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে হয়ে ঠেঙ্গামারী, আওয়ালী বিল মাকড়ার বিল, পদ্ম বিল, মান্দারতলা ও সোনামুখি বিল। এছাড়া অনেক বাড়ি ও স্কুলে পানি উঠে ও মানবতার জীবন যাপন করছে হতদরিদ্্র পরিবারগুলো।
চলতি সবজি ও শীতকালিন সবজি চাষের আবাদি জমি নষ্ট হওয়ায় বাজারে সবজির ও চড়াদাম । এতে করে কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে।
প্রতি বছর বর্ষা মৗসুমে ইছামতী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে এসব জমি পানিতে ডুবে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এখনও পর্যন্ত উপজেলার রুদ্রপুর, গোগা, শার্শা, বাহাদুরপুর, পুটখালী, বাগআঁচড়া, নাভারণ, শ্যামলাগাছি ও বেনাপোল এলাকার বিস্তীর্ণ জমিতে পানি জমে রয়েছে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, ইছামতী নদীর মুখে সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এবং দীর্ঘদিন ধরে নদীটি খনন না করায় পানি সহজে নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে বছরের পর বছর এই অঞ্চলের কৃষকেরা একই সমস্যার মুখে পড়ছেন। জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কিছু এলাকায় শুধুমাত্র একটি মাত্র ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়।
রুদ্রপুর গ্রামের কৃষক হোসেন আলী বলেন, প্রতি বছর বর্ষার সময় এই সমস্যা হয়। পানি না নামার কারণে আবাদ করা যায় না। প্রশাসনের উচিত স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ ও নদী খননের ব্যবস্থা নেওয়া।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি বছরের ভারি বর্ষণে শার্শা ও বেনাপোল থানার ৪০০ হেক্টর জমিতে পানি উঠে আমনের বীজতলা সহ ধান পাট ও সবজি ফসল নষ্ট হয়েছে। পানি জমে থাকায় এবছর আমন ধান চাষ ব্যাহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এই বিলগুলোয় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া।