বেনাপোল কাস্টম কর্মকর্তার ঘুষ ও হয়রানির সংবাদ প্রকাশে তোলপাড় সংবাদকর্মীদের উপর চাপ

মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের শুল্কায়ন গ্রুপ-২এর রাজস্ব কর্মকর্তা সোলাইমান শাহেদের বিরুদ্ধে আমদানিকারক প্রতিনিধিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বেনাপোলের বর্তমান বহুলালোচিত এ সংবাদ প্রকাশের জেরেই একটি প্রভাবশালী প সংবাদকর্মীদের শাসাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে-এমনই অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে।
মঙ্গলবার দিনভর কাস্টমসের সুবিধাভোগী একটি মহল রাজস্ব কর্মকর্তা সোলাইমান শাহেদের পক্ষ থেকে সংবাদকর্মীদের আর্থিক প্রলোভন, চাপ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনি”চ্ছুক স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদিক জানান- কাস্টম কর্মকর্তা সোলাইমান শাহেদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তাঁকে দিনভর নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। অনলাইন সংবাদ ডিলিট করতে এবং প্রিন্ট প্রতিবেদন ‘মিথ্যা’ বলে প্রতিবাদ দেওয়ার চাপও দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এভাবে যদি সংবাদকর্মীদের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তাহলে সমাজের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করা সাংবাদিকদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজস্ব কর্মকর্তা সোলাইমান শাহেদের বিরুদ্ধে আমদানিকারক প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী বকুল প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন-একেকটি চালান ছাড় করতে ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে পণ্যের ধরনভেদে ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা ও নেয়া হয়। ভয় দেখানো হয় ল্যাব পরীার; চাপ দেওয়া হয় অযথা সময়পেণের।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা সোলাইমান শাহেদ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে স্টেশনজুড়ে খোঁজখবর নিলে আমদানিকারক প্রতিনিধিদের হয়রানির নানা অভিযোগ মেলে। কয়েকজন প্রতিনিধি দাবি করেন-ঘুষ না দিলে ফাইলে স্বার করেন না তিনি। তার চাহিত অর্থ দেওয়া না হলে পণ্য পরীক্ষণের নামে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বুয়েটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজস্ব কর্মকর্তা সোলাইমান শাহেদের ঘুষের অর্থে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদও করেছেন বলে তারা মনে করেন। তাদের ভাষ্য, দুদক তদন্ত করলে বিষয়গুলো বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, কাস্টমসের অনিয়ম নিয়ে কেউ গণমাধ্যমে মুখ খুললে লাইসেন্স সাসপেন্ড করা বা ‘বিন লক’ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এতে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে ভয় পান, আর এ সুযোগেই অসাধু কর্মকর্তারা প্রতিদিনই বড় অঙ্কের অনৈতিক অর্থ আদায় করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে ৬ অক্টোবর-২৫ বেনাপোল কাস্টমসের আরেক কর্মকর্তা শামীমা আক্তার দুদকের ফাঁদে ধরা পড়েন। তার সহকারী হিসেবে পরিচিত হাসিবুর রহমানের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ঘুষের ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা তিনি শামীমার জন্য নিচ্ছিলেন বলে দুদকে স্বীকারোক্তি দেন।

বেনাপোল কাস্টমসের একাংশের অনিয়ম-হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে অনেকে এ বন্দর ব্যবহার কমিয়ে তাদের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এতে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দরটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *