শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক)ঃ যশোরের কেশবপুরে নার্গিস বেগম (৪২) নামে এক গৃহবধূকে ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা না নেওয়ায় বিচার দাবি জানিয়ে মাবনবন্ধন করেছে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। গত শনিবার (৩ আগষ্ট) দুপুরে কেশবপুর পৌর শহরের থানার মোড় সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে যশোর-চুকনগর মহাসড়কের উপরে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনের ব্যানারে লিখেছে, কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদ গাজী ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার ভোট চুরির কারিগর এবং দোসর। সে এলাকার বিখ্যাত সুদখোর ও মামলাবাজ। থানা প্রশাসনের সহযোগিতায় সে এইসব অপকর্ম করে। এই মামলাবাজ ও ধর্ষণের চেষ্টাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এছাড়াও লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করেছে গত মাসের ২৫ জুলাই-২০২৫ সকাল অনুমান ৭টার দিকে উপজেলার কেদারপুর গ্রামের মৃত নিছার গাজির ছেলে নুর মোহাম্মাদ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের এত ১০৯২৮-৪৫৫৪১৮ নাম্বার দিয়ে নার্গিসের ফোন দিয়ে তার বাসায় ডেকে নিয়ে কু-প্রস্তাব দেয়। সে রাজি না হওয়ায় নুর মোহাম্মদ তার ঘরের মধ্যে জাপটে ধরে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। ওই গৃহবধুর ডাকচিৎকার দিলে নুর মোহাম্মাদ তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনার বিষয় গৃহবধু ওই দিন বিকালে ধর্ষনের চেষ্টা বাদ দিয়ে কু-প্রস্তাব এবং মারপিট ও খুন জখমের হুমকি দিয়েছে বলে থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করে।
মানববন্ধনে উপজেলার কেদারপুর গ্রামের হযরত আলির কন্যা নার্গিস বেগম বলেন, আমার স্বামী মালায়শিয়া প্রবাসী। নুর মোহাম্মদ তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ঘরের ভিতরে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওইসময় ডাকচিৎকারে সে আমাকে ছেড়ে দিলে আমি ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে তারা আমাকে একটি অভিযোগ লিখে আনতে বলেন। পুলিশের কথা মতো আমি একটি অভিযোগ লিখে থানায় জমা দিয়েছি। আমি মূখ্য মানুষ, তাই তাদের কথা মতোই অভিযোগে কু-প্রস্তাব লিখেছি। তবে নুর মোহাম্মদ আমাকে ধর্ষনের চেষ্টা চালিয়েছে। পুলিশ আমাকে থানায় কোন প্রকার পাত্তাই দিচ্ছেনা। আমি এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।
মানববন্ধনে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, নুর মোহাম্মাদ একজন মামলাবাজ এবং চরিত্রহীন মানুষ। সে নার্গিস বেগমকে ধর্ষনের চেষ্টা চালিয়েছে। ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনাটি নুর মোহাম্মদের বাড়ির সিসি ক্যামেরায় ফুটেজে রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোকলেছুর রহমান ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করে ফেলেছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করছি।
অভিযুক্ত নুর মোহাম্মাদ বলেন, নার্গিস বেগমের স্বামী বিদেশে যাওয়ার সময় আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার করে নেয়। নার্গিস বেগমকে বাড়িতে ডেকে পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে নার্গিস আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করেছে। শুধু তাই নয়! আমি সরকারি চাকরি করাতে এবং বাড়ির জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে আমার আপন ছোটভাই ফরহাদ হোসেনসহ এলাকার কিছু কুচক্রীমহল আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করেছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মানহানীর মামলা করেছি।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, নার্গিস বেগমের অভিযোগে কু-প্রস্তাবের কথা লেখা থাকায় কোন মামলা হয়নি। তবে তদন্ত করে তাদের উভয়ের মধ্যে টাকা পয়সার লেনদেন রয়েছে। ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনাটি সিসি ফুটেজে থাকার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। তবে বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।