বরেন্দ্র অঞ্চলে তীব্র শীত-কুয়াশায় পলিথিনে ঢেকে ধানের বীজতলা রক্ষা

মোহাম্মদ আককাস আলী,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁয় কয়েক দিন ধরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। তাপমাত্রা ক্রমেই কমে যাওয়ার সঙ্গে হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। কুয়াশার কারণে অনেক দিন দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষিকাজেও প্রভাব পড়ছে।

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। সামনে জেলাজুড়ে বোরো ধান রোপণের মৌসুম শুরু হবে। তার আগে বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। তবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছেন কৃষকেরা।

জেলার স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ঠান্ডা ও কুয়াশার প্রভাবে বোরো বীজতলা হলদে ও লাল হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা অনেকটাই কমে।

জেলার তৈতুলিয়া, নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা, বদলগাছী উপজেলার বালুভরা, রানীনগর উপজেলার কাশেমপুরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বীজতলাই পলিথিন দিয়ে ঢাকা।

কৃষকেরা জানান, তাঁরা জমিতে বোরো আবাদ করবেন। সে জন্য আগেই বীজতলা তৈরি করেছেন। শীত ও কুয়াশা থেকে রক্ষার জন্য বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। জেলার কৃষকেরা আরও বলেন, বীজ ফেলার আট দিন পর বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন এবং ২২ দিন পর পলিথিন তুলে ফেলবেন। এতে বীজতলায় রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম হয় এবং রোপণের জন্য ভালো চারা পাওয়া যায়। পাশাপাশি পলিথিন ব্যবহার করায় কীটনাশক দিতে হয় না, ফলে বাড়তি খরচও কমে।

জেলা কৃষি উপপরিচালক কর্মকর্তা সত্যব্রত সাহা বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরি’ দেখা দেয়। এতে বীজ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না, অনেক সময় হলদে ও লাল হয়ে পচে যায়। পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা উষ্ণ থাকে এবং চারাগাছ নষ্ট হয় না। এতে কৃষকেরা উপকৃত হন। বীজতলা রক্ষায় পলিথিন ব্যবহারের জন্য কৃষকদের আহ্বান জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *