মো: আনিছুর রহমান বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোষ্টে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে প্রতিদিন ছিনতাই হচ্ছে। চেকপোষ্ট আন্তর্জাতিক প্যাচেঞ্জার টার্মিনাল, আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল, চৌধুরী সুপার মার্কেট, ইউনুস মার্কেট, রেজাউল মার্কেট সহ বিভিন্ন জায়গায় এসব ছিনতাইকারীরা রাত তিনটা থেকে সারাদিন বিচারন করে । এবং সুযোগ বুঝে ছিনতাই করে নির্বিঘ্নে চলে যায়। অথচ এখানে রয়েছে বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ, আনসার সদস্য, এপিবিএন পুলিশ সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন।
সোমবার বগুড়া থেকে আসা ক্যান্সারের রোগী আরজিনা বেগম নামে ( পাসপোর্ট নং এ০০৫৫৬১৪২) এক যাত্রীর নিকট থেকে আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনালের সামনে থেকে ডালিম নামে এক ছিনতাইকারী ১৬ হাজার টাকা ছিনতাই করে নেয়। এরপর ওই নারীর কান্নাকাটির পর স্থল বন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাচেঞ্জার টার্মিনালের নিরাপত্তার দায়িত্বে এপিবিএন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই টাকা উদ্ধার করতে পারলেও ছিনতাইকারী ডালিমকে আটক করতে পারে নাই।
এভাবে প্রতিদিন এই চেকপোষ্টে কোন না কোন পাসপোর্ট যাত্রীর টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নির্ভিগ্নে পালিয়ে যাচ্ছে ছিনতাইকারীরা। দুর দুরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা অবশেষে কুল-কিনারা না পেয়ে তাদের গন্তব্য চলে যেতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় মোনতাজ উদ্দিন বলেন, এসব ছিনতাইকারীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন চিনলেও তারা গুরুত্ব সহকারে আবার সাক্ষীর অভাবে এ বিষয় তেমন মাথা ঘামান না। মাঝে মধ্যে দুই একজনকে ধরে চালান দিলেও তারা আবার আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে বেরিয়ে আসে।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থল বন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এপিবিএন পুলশ এর ইন্সপেক্টর সন্তুু বলেন, আমি প্রায় প্রতিদিনই পাসপোর্ট যাত্রীদের টাকা ছিনতাইয়ের সংবাদ পাই। মাঝে মধ্যে আমরা কিছু টাকা স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার হলেও বেশীরভাগ ছিনতাইকারী সনাক্ত করতে না পারায় টাকা উদ্ধার হয় না। এর জন্য সকলের আন্তরিকতা থাকলে রোধ করা সম্ভব।
বেনাপোল ওসি মো: রাসেল মিয়া বলেন, বেনাপোল চেকপোষ্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক দফায় কয়েকজনকে মামলা দিয়ে চালান দেওয়া হয়েছে। এরপর তেমন কোন অভিযোগ পায়নি। যেহেতু ছিনতাইকারীরা আবারও সক্রিয় হয়েছে আবার অভিযান চালিয়ে তাদের সনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।