মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত-পুলিশ সুপার রওনক জাহান

শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক) যশোরের প্রথম নারী পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেছেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত। তাঁর জীবন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনন্য প্রেরণার উৎস। নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হলে মধুসূদনের জীবন ও কর্ম তুলে ধরা জরুরি। তিনি শুধু যশোর নয়, গোটা জাতির গর্ব। গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভিটে সাগরদাঁড়ি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ এনেছেন। তাঁর কাব্যিক দক্ষতা, চিন্তার স্বচ্ছতা এবং ভাষার সৌন্দর্য বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে মহাকাব্যধর্মী কাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যে একটি মাইলফলক। এমন একজন মনীষীর জন্মভিটে আমাদের দেশে এটি আমাদের জন্য গর্বের ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মাঝে সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির চর্চা কমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকার বা প্রশাসন নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, স্থানীয় সমাজ, পরিবারেরও দায়িত্ব রয়েছে তরুণদের মধ্যে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বোধ জাগিয়ে তোলা।মধুসূদনের মতো মনীষীদের জীবনী, সংগ্রাম, সৃষ্টিকে পাঠ্যপুস্তক ও পাঠচক্রের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাগরদাঁড়িকে কেন্দ্র করে সাহিত্য, পর্যটন ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি চমৎকার পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেখানে সারা বছর ব্যাপী কবিতা পাঠ, নাটক, গবেষণা ও সাহিত্য সভা আয়োজন করা যাবে। এতে শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই এলাকা পরিচিতি লাভ করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা যেকোনো ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত।

পরিদর্শনকালে এসপি রওনক জাহান মধুপল্লীর মাইকেল মধুসূদন দত্তের শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত (মধুপল্লী) পৈত্রিক বাড়ি, দেবালয়, মধুসূদন জাদুঘর, ঘুরে ফিরে দেখেন। এখানকার নান্দনিক সৌন্দর্য, পরিস্কার পরিছন্নতা ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন এবং কবির ব্যবহৃত আসবাপত্র দেখে খুশি প্রকাশ করার পাশাপাশি কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও মধুপল্লীর ভেতরে অবস্থিত পুকুরে রঙিন মাছের সৌন্দর্য উপভোগ করে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার (মনিরামপুর সার্কেল) ইমদাদুল হক, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন, মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান হাসানুজ্জামান, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম হোসেন খান, সাগরদাঁড়ি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন, আলোকচিত্র শিল্পী মুফতি তাহেরুজ্জামান তাছু প্রমূখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *