সিলেটে জুড়ে মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ছোঁয়া, চা বাগান গুলোতে ফিরে পেয়েছে সবুজের সমারোহ

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট ব্যুরো: সিলেটে জুড়ে মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ছোঁয়া, চা বাগান গুলোতে ফিরে পেয়েছে সবুজের সমারোহ। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বাগান গুলোতে হলদে পাতা পড়ে গিয়ে গত দু’দিনের সবুজ রঙ্গের দৃশ্য চোখে পাড়ার মত। প্রথম বৃষ্টি স্নাত চা চয়নে সুবাসে ভরে উঠছে চা শিল্পের অন্যতম রূপকার শিল্পপতি ড. আলহাজ রাগীব আলীর স্বপ্নের রাজনগর চা বাগান। বসন্তের মাঝখানে প্রথম বৃষ্টির ছোঁয়ায় নতুন প্রাণ ফিরে পায় চা গাছ। এই সময় চা বাগানে শুরু হয় বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রথম বৃষ্টি স্নাত চা পাতা চয়ন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে প্রকৃতিতে দেখা দেয় আশীর্বাদের বৃষ্টি। প্রকৃতির এই বিশেষ মুহূর্তকে ঘিরে চা বাগানজুড়ে দেখা যায় নতুন উদ্দীপনা ও কর্মব্যস্ততা।

প্রথম বৃষ্টির পর চা গাছে যে কচি পাতাগুলো গজায়, সেগুলোকে বলা হয় “ফার্স্ট ফ্লাশ” বা প্রথম ধাপের চা পাতা। এই পাতা গুলো সবচেয়ে কোমল ও সুগন্ধি হওয়ায় এর মানও তুলনামূলক বেশি। চা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম বৃষ্টির পর জন্মানো এই পাতায় স্বাদ ও ঘ্রাণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে, যা চা প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

মৌলভীবাজারের রাজনগর চা বাগানের শ্রমিকরা ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে বাগানে নেমে পড়েন আনুষ্ঠানিক পাতা সংগ্রহে। সাধারণত একটি কুঁড়ি ও দুটি পাতা (টু লিভস অ্যান্ড এ বাড) নিয়মে পাতা তোলা হয়। এতে চায়ের গুণগত মান বজায় থাকে। শ্রমিকদের দক্ষ হাতে সারি সারি সবুজ গাছ থেকে তোলা হয় কঁচি পাতাগুলো।

চা বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম বৃষ্টির পানিতে চা গাছ দ্রুত সতেজ হয়ে ওঠে। ফলে নতুন কুঁড়ি দ্রুত বের হয় এবং উৎপাদনও বাড়তে থাকে। এই সময় সংগ্রহ করা চা পাতা দিয়ে তৈরি চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ বাজারে আলাদা গুরুত্ব পায়।

আনুষ্ঠানিক পাতা চয়নে রাজনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের চা শিল্পে এই মৌসুমের চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চা বাগান গুলোতে- যেমন মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও সিলেট অঞ্চলে-প্রথম বৃষ্টি স্নাত চা পাতা চয়নকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রকৃতির মায়াবী ছোঁয়ায় ভেজা সবুজ চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য আর কঁচি পাতার সুবাস মিলিয়ে যেন এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয়। পাতা চয়নে আসা নারী চা শ্রমিক বাসন্তী রবিদাশ বলেন, প্রথম বৃষ্টির এই স্নিগ্ধতায় শুরু হয় নতুন মৌসুমের চা উৎপাদনের পথচলা। আমরা চা গাছগুলোকে সন্তানের মত লালন করার চেষ্টা করবো। বাগানের সহকারী সিনিয়র ব্যবস্থাপক জুয়েল আহমদ বলেন, “আমাদের চা বাগানে মৌসুমের প্রথম পাতা চয়ন করেছি বৃষ্টি স্নাত দিনে। এটা শুভ লক্ষণ, আশা রাখি এ মৌসুম চায়ের জন্য ভালো হবে। আবহওয়া অনুকূলে থাকলে চা উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পাতা চয়নের শুরুতে রাজনগর চা বাগানের সমৃদ্ধি সফলতা কামনা করে মহান প্রভূর কাছে প্রার্থনা করেন বাগানের ইমাম ও পুরোহিত।
ওই আনুষ্ঠানিকতায় বিগত বছরে শ্রেষ্ঠ পাতা চয়নকারি ৬ জন শ্রমিকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন  চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *