৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বেনাপোলের কসাই মিজান হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়নি? অভিযোগের তীর পরিবারের দিকে

মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোর এর বেনাপোলে গরু ব্যবসায়ী ও কসাই মিজানুর রহমান হত্যাকান্ডটি রহস্যময় ও পরিকল্পিত। তাকে গলা কেটে নিজ বাড়িতে হত্যার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও এবং যথেষ্ট এ হত্যাকান্ডের আলামত থাকলেও কেন পুলিশ হত্যার রহস্য উন্মোচন এবং কারা এই হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারে তা সনাক্ত করতে না পারায় এ  নিয়ে চলছে এলাকায় নানা আলোচনা সমালোচনা।

গত ২০২৫ সালের আগষ্ট মাসে দিবাগত রাত্রে বেনাপোলের ছোটআঁচড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। সিসি টিভির ক্যামেরায় বহিরাগত কারো প্রবেশ না দেখায় এটি নিয়ে ব্যপক আলোচনা ও সন্দেহের তীর ছুড়ছে অনেক মিজান এর ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীর দিকে।

স্থানীয় সুত্র জানায় এত সুরক্ষিত বাড়িতে বাইরে কারো প্রবেশ না থাকলে হত্যাকন্ড কি ভাবে ঘটলো? এ প্রশ্ন এখন মুখ্য হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকেই ধারনা করছেন হত্যার আগে মিজানকে চেতনানাশক কিছু দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। কারন এমন নৃশংস ঘটনার সময় তার কোন চিৎকার শুনা যায়নি।  নিহতের স্ত্রী ফিরোজা জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে মিজান বাড়িতে ফিরে গেট ও ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে ঘুমাতে যান। মিজান রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে  গরু কাটতে বাহিরে যায়।ওই দিন রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে ভ্যানচালক ডাকাডাকি করলে আমি বাইরে গিয়ে দেখি ঘরের গেটের প্রায় তিনগজ দুরে তার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যে স্থানে মিজানকে হত্যা করা হয়েছে সে জায়গাটা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত না থাকায় ও নানা গুঞ্জন রয়েছে এটা একটি ছক একে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী মিজানের সাথে তার আগের দিন মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টির বাক বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মেয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এছাড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী ওই বাড়িতে ঘটনার দিনে একবার নীল শার্ট পরিহীত এক ব্যাক্তিকে বাড়ি প্রবেশ করতে দেখা যায়। ওই ব্যাক্তি প্রায় ওই বাড়িতে যাতায়াত করে। তাকে নিয়ে চলছে রহস্যের ধুম্রজাল। তবে তাকে রাত্রে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে অনেক কষ্ট করে বাড়ির দক্ষিন পাশ দিয়ে পাচিল ডিঙিয়ে একটি গাছে চড়ে নীচে নামতে হবে তাহলে সিসি ক্যামেরার আওতায় পড়বে না।

বিশেষ সুত্র জানায় মিজান হত্যাকান্ডের সাথে পরকীয়া প্রেমের মত  কোন ঘটনা ও থাকতে পারে। এবং নিজের স্ত্রী ও মেয়ে চেতনানাশক ঔষধ দিয়ে নিস্তেজ করে হত্যা করতে পারে। কারন মিজান হত্যার পর যেখানে নিস্তেজ হয়ে পড়ে রয়েছে সেখানে সে টান টান হয়ে শুয়ে পড়ে রয়েছে। তার লুঙ্গি যেমন তেমন রয়েছে। সে কোন দাপাদাপি করে নাই।  আবার ভ্যান ওয়ালা ডাকাডাকির আগে মিজান ঘর থেকে বের হয়ে গেটের তিনগজের মাধ্যে হত্যা হয়েছে তাকে ঘর থেকে বা কে বের করল? আবার ঘরের গেট কে বন্ধ করল? আবার ভ্যান ওয়ালার ডাকাডাকির পর মিজান এর স্ত্রী দরজা খুলে দেওয়ার ও শব্দ পাওয়া যাচ্ছে সিসি ক্যামেরায়। এছাড়া সিসি ক্যামেরায় শব্দে শুনা গেছে মিজানের স্ত্রী ফিরোজা বলছে এ বৃষ্টি এবার কি করবি। নানা ধরনের ধুম্রজাল বইছে এ হত্যা কান্ড।

আবার ফিরোজা ওই সময় বলেছিলেন আমার যা হারাবার তা হারিয়ে গেছে আমি মামলা করব না। এরপর মিজান এর ভাই বাদি হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।

মিজান হত্যাকান্ডে প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় একজন ওসি ও বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে বদলী হয়েছে বলে শুঞ্জন উঠেছে।তারপর দুই জন ওসি আসলেও কেন এ রহস্যের দ্বার উন্মোচন হচ্ছে না এ নিয়ে চলছে এলাকায় নানা আলোচনা সমালোচনা।

এ বিষয় বেনাপোল পোর্ট থানার এস আই (উপ-পরিদর্শক) মামলার আইও মানিক সাহা বলেন, মিজান হত্যা মামলার রহস্যের এখনো কোন অগ্রগতি নাই। আমরা  চেষ্টা চালাচ্ছি সাধ্যমতো।

উল্লেখ্য মিজান এলাকায় একজন ভাল মানুষ হিসাবে পরিচিত ছিল। তার নামে কোন মামলা ও ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *