হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিনিধি আমেরিকাঃ নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিত মুখ জসি চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। নিউইয়র্কের ম্যানহ্যাটানের একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৪ মার্চ) দিবাগত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিলে ৬০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান নীল সহ অনেক আত্মীয়—স্বজন রেখে গেছেন। তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রোজিনা’র ছোট ভাই। তার দেশের বাড়ি রাজবাড়ী। সম্প্রতি এলমহাস্টর্ হাসপাতালে তার ব্যাকবোনের (মেরুদন্ড) সার্জারী হয়। পরবতীর্তে ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে তাকে ম্যানহ্যাটানস্থ মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা যায়, ব্যাকবোনের (মেরুদন্ড) সমস্যার কারণে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জসি চৌধুরী এলমহাস্টর্ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার সার্জারী হয়। পরবতীর্তে তার ফুসফুসে জটিল সমস্যা দেখা দেয় এবং তাকে ম্যানহ্যাটানস্থ মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এক পর্যায়ে তার দুটি ফুসফুসই অকেজো হয়ে পড়ে এবং তার ফুসফুস প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেই সময় আর পাওয়া গেল না, জসি চৌধুরী চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
সামাজিক সংগঠন ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র সভাপতি শাকিল মিয়া জানান, ১৯৯৩ সালে জসি চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র আসেন। তিনি ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র সহ সভাপতি ছিলেন। ছিলেন ফুটবলার। ঢাকায় খেলেছেন সানরাইজ ক্লাবে।
হাসপাতালের বেড থেকে সর্বশেষ গত ১১ মার্চ জসি তার নিজ ফেসবুক পেজে বলেন— ‘আমার দিনগুলো সর্বশক্তিমান আল্লাহর হাতেই আছে… তোমাদের সকলের নিঃশর্ত ভালোবাসার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই.. হ্যাঁ, আমার ভুল হয়েছে, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও… যদি আমি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমি তোমাদের সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি….’। জসি চৌধুরীর ইন্তেকালে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় তার বন্ধু মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিকে মরহুম জসি চৌধুরীর নামাজে জানাজা বুধবার (২৬ মার্চ) বাদ আসর জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রীটের বাংলাদেশ প্লাজার সামনে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট ফাহাদ সোলায়মান ও শাকিল মিয়া।
জানাজায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, জেবিবিএ’র সভাপতি গিয়াস আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, বক্সার সেলিম, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর নূরুল আজিম, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সারোয়ার খান বাবু ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলাম, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহদু সহ সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অংশ নেন।
জানা গেছে, পারিবারিক সিদ্ধান্তে জসি চৌধুরীর মরদেহ বাংলাদেশ পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করে। ঢাকাস্থ বনানী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানা গেছে।