হাসিনা ও তার দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ বেশি-অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপকভাবে ব্যর্থতার জন্যই

কালের সংবাদ ডেক্স ঃ আবার ক্ষমতার রাজনীতির অংশ আওয়ামীলীগ খুব শীঘ্রয় কি? আওয়ামী লীগের বহু নেতার সায়েস্তা করবেন আওয়ামীলীগয়ই।

অন্তর্বর্তী সরকারই ভাবছেন কি এখন ? দেশকে ঠিককরতে হলে আওয়ামীলীগকেই আনতে হবে ক্ষমতায় বোধয়।

অন্তর্বর্তী সরকার এখন অচল। আগামী দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হাসিনা ও তার দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ বেশি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হলে এই প্রেক্ষাপট আরো বেশি।

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা সবাই কোটা আন্দোলন দেখে অবাক হয়েছিলাম। আসলে আমি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বলেছিলাম, ৩০ শতাংশ কোটা বেশি হয়ে যায়; আমাদের এটি কমিয়ে ৫ শতাংশে নিয়ে আসা উচিত। তখন একজন মন্তব্য করেন, আমরাও মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি। আমি মজা করে বলেছিলাম, এ জন্যই তো আমি ৫ শতাংশ রাখতে বলেছি!

কোটা ইস্যু অগ্নিশিখার মতো বৈষম্য ও রাজনৈতিক দমনপীড়নের প্রতি বাংলাদেশের জনসাধারণের ক্ষোভকে উসকে দেয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সহিংসভাবে দমন-পীড়নের ফলে বেশকিছু মানুষ মারা যায়। তবে এ-হত্যা পরিকল্পিত ভাবেও কেহ / কোন গুষ্টি দারা বাহির হতে ঘটানো হয়েছে বলে জনগন বুঝতে পেরেছে।

তিনি (হাসিনা) দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খুবই চিন্তিত ও হতাশ। তিনি চিন্তা করছেন জনগন সংঘবদ্ধ হচ্চেন না কেনো।

গত ১৫ বছরের অপ্রতিরোধ্য শাসনের সময় হাসিনার দল আওয়ামী লীগ প্রত্যেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর ফলে সেনাবাহিনী, আদালত, জনসেবা ও বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

জনসংখ্যার দিকদিয়ে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসাবে বাংলাদেশের পুনর্গঠনের দায়িত্ব পড়েছে ছাত্রনেতা এবং সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর, যারা হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন। তারা এখন ভেবে পাচ্ছেন না কি করে দেশ সামলাবেন।

বর্তমানে নির্বাচনি ব্যবস্থা, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসন এবং জাতীয় সংবিধানসহ ছয় দফা সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে বলছে অন্তরবর্তী সরকার। ভিতরে আসলে কি হচ্ছে কেও বলতে পারছেন না। ২৬ আগস্ট এক টেলিভিশন ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, ‘দুর্নীতি, লুটপাট এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি দায়বদ্ধ রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই এই সংস্কারের উদ্দেশ্য। যদি আমরা সুযোগ হারাই, আমরা জাতি হিসেবে পরাজিত হব।

বর্তমানে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আওয়ামী লীগের লোকজনদের সরানো হচ্ছে, অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাজারো পুলিশ সদস্য আত্মগোপনে চলে গেছেন, যাতে জনরোষের শিকার না হন (বেশকিছু পুলিশ কর্মকর্তা নিহতও হয়েছেন)।

প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেত্রী খালেদা জিয়া গৃহবন্দি থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দেশের প্রধান ইসলামপন্থি (রাজাকারের দল নামে পরিচিত) দল জামায়াতে ইসলামীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।

হাসিনার চলেযাবার উচ্ছ্বাস এখন দেশ কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে মতবিরোধের রূপ নিয়েছে। ৩১ সেপ্টেম্বর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারের পক্ষ থেকে পাঠ্যবই পর্যালোচনা করার জন্য গঠিত কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্তকে ইসলামি মৌলবাদীদের সঙ্গে গুরুতর এবং বিপজ্জনক’ আপস হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর জবাবে, ইসলামি সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতারা এসব উদ্বেগকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারে কোনো রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি না থাকায় নতুন নির্বাচনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করতে এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির আওতায় আনতে সময় লাগবে। সংস্কারকরা সত্যিই জটিল এক পরিস্থিতিতে আছেন। ড. ইউনুস কি ভাবছেন এখন জনগনের ভাবনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *