বেনাপোলে হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

মো: আনিছুর রহমান , বেনাপোল প্রতিনিধি: দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিােভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা।  রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০ টার সময় যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখায় স্থবির হয়ে পড়ে বন্দরনগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে পাসপোর্টধারী যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সকাল থেকেই বেনাপোল পৌর সভা এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা  মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেন। এর ফলে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। উল্লেখ্য, বেনাপোল একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানে লাধিক মানুষের চিকিৎসার জন্য কোনো  হাসপাতাল নেই। জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয়দের প্রায়  ৪০ কিলোমিটার দূরে নাভারণ বা যশোর সদর হাসপাতালে যেতে হয়। এই দীর্ঘদিনের অভাব থেকেই আজকের এই ােভের বহিঃপ্রকাশ।


সড়ক অবরোধের কারনে  ঢাকা-কলকাতা ও দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা দীর্ঘণ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলোও যানজটে আটকা পড়ে।

আন্দোলন চলাকালে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন শার্শা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক   মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম। তিনি এলাকাবাসীর দাবির প্রতি সমার্থন  জানালেও সড়ক অবরোধের তীব্র সমালোচনা করেন।
আমরা অবশ্যই এই বন্দরে একটি আধুনিক হাসপাতাল চাই, এটি আমাদের প্রাণের দাবি। তবে মানববন্ধন বা আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা সমর্থনযোগ্য নয়। লাধিক মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করা মানে সাধারণ মানুষকে কষ্টে ফেলা। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাতে পারি। হুট করে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ করা একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।”

আন্দোলনকারীদের শিক্ষার্থীদের দাবি  বেনাপোল পৌরসভায় বসবাসরত বিপুল জনসংখ্যা এবং প্রতিদিন বন্দরে আসা হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তার জন্য এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল স্থাপন করার  দাবি। তবে সচেতন মহল মনে করছেন, দাবি আদায়ের কৌশল হিসেবে সাধারণ মানুষের পথচলা বন্ধ না করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই শ্রেয়।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, এই বন্দরে পণ্য লোড আনলোড করার সময় অনেক শ্রমিক আহত হয়। সম্প্রতি শাহাজাহান নামে একজন শ্রমিক পণ্য আনলোড করার সময় আহত হয়। চিকিৎসা ব্যবস্থা বেনাপোলে না থাকায় তাকে যশোর হাসপাতালে নিতে গিয়ে পথে মারা যায়।

এ বিষয় যশোর নাভারন এলাকার সার্কেল এ এসপি আরিফুল ইসলাম বলেন, বেনাপোল চট্রগ্রাম বন্দরের পর বেনাপোল বন্দর থেকে রাজস্ব আহরন করে থাকেন। হাসপাতাল বেনাপোলবাসির একটি প্রানের দাবি আমরা এর সাথে একাত্নতা প্রকাশ করি। কারন এই জনগুরুত্ব এলাকায় একটি হাসপাতাল প্রয়োজন। আমি ইতিমধ্যে খবর পেয়েছি এই হাসপাতাল প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এটা পাশ হয়েছে। তবে তিনি মানববন্ধন এর নামে সড়ক অবরোধ সমর্থন করেন না। তিনি বলেন আমরা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নিয়োজিত তাই সড়ক মুক্ত করার কাজ চলছে সড়কে দাড়িয়ে অবরোধ করা মানে জনগনের ভোগান্তি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *