বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ-ইন: সন্তানসহ বেনাপোল সীমান্তে আটকে আছেন ভারতের ঝাড়খণ্ডের রেশমা

বেনাপোল প্রতিনিধি: সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক পুশ-ইনের (ঠেলে দেওয়ার) শিকার হয়ে এক শিশু সন্তানসহ বাংলাদেশে আটকে পড়েছেন রেশমা নামের এক ভারতীয় নারী। বর্তমানে তিনি তার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুলতা নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থান করছেন। গত ৮ জুলাই থেকে বেনাপোলের এক সহৃদয় ব্যক্তির আশ্রয়ে রয়েছেন মা ও শিশু।
ভুক্তভোগী রেশমা ভারতের ঝাড়খণ্ড প্রদেশের পাকুর জেলার মহেশপুর থানার খাগড়া গ্রামের রাজুর স্ত্রী। ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাইয়ে গৃহকর্মীর কাজ করতেন তিনি।

রেশমা জানান, তিনি মুম্বাইয়ের একটি বাসাবাড়িতে কাজ করার সময় সেখান থেকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে তাকে এবং তার সন্তানকেও আটক করে। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দাবি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। আটককৃতদের সঙ্গে তাদেরও বিমানে করে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়। এরপর রাতের অন্ধকারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেয়।
সেখান থেকে তাদের চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হয়। রেশমা বলেন, “আমি ভারতীয় নাগরিক। ভুলবশত বাংলাদেশিদের সাথে আমাকেও পুশ-ইন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আমি ও আমার ছেলে ভারতের নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেনাপোল চেকপোস্টে এসেছি। গত ৮ জুলাই থেকে এখানে এসে একজনের সহানুভূতিতে তার বাসায় আশ্রয় নিয়ে আছি। আমি যেকোনো উপায়ে আমার নিজ দেশে, আমার স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চাই।”

রেশমা ও তার শিশুর এই অসহায়ত্বের খবর স্থানীয়ভাবে জানাজানি হওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও মানবিক। দ্রুততম সময়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বেনাপোল পোর্ট থানা এবং খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রেশমার পরিচয় নিশ্চিত করে তাকে ভারতে প্রত্যাবাসন করা প্রয়োজন।

মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা এড়াতে এবং মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের দ্রুত কোনো সরকারি বা বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার নিরাপদ আশ্রয়ে (শেল্টার হোম) নেওয়া দরকার। একই সাথে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের (Flag Meeting) মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *