হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিনিধি আমেরিকা : গত ২৮ জুলাই ২০২৬,মঙ্গলবার অপরাহ্ন ১টায় নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা; বিরোধী পক্ষকে দমনের উদ্দেশ্যে আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ এবং ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণ প্রতিরোধের দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ইষ্ট ৪৭ ষ্টেট ও ১ম এভিনিউ,ম্যানহাটন,নিউইয়র্ক এ অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট মোর্শেদ জামান ও পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান হিমেল ।এতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ও বাকসু”র সাবেক জিএস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ড.প্রদিপ রজ্ঞন কর, অন্যতম উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন, সাবেক সহকারী এটর্নি জেনারেল এডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আলী সিদ্দিকী, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মাদ বখতিয়ার আলী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও কলামিস্ট এমএ করিম জাহাঙ্গীর,আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন,আওয়ামী লীগ নেতা মনজুর চৌধুরী,নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল.কক্ষপথ “৭১ যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি এডভোকেট জাকির এইচ মিয়া,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিনহাজুদদারুজ্জামান লিটন, ব্যারিস্টার আকমল,এডভোকেট জয় আচার্য্য ।প্রতিবাদ সভায় অন্যনাদের মাঝে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট সায়দুর রহমান, অ্যাডভোকেট নূরুল কবির জুয়েল, অ্যাডভোকেট অ্যলমগীর হোসেন প্রমুখসহ অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন ।বাংলাদেশে অপশাসনের তথ্য আন্তর্জাতিক মহলকে জোরালোভাবে জানাতে হবে। নিউইয়র্কের সমাবেশে শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সামনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ’র বিক্ষোভ-সমাবেশে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথি বক্তব্যকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমিসহ আমার বোন শেখ রেহানা ও আমাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ক্যাঙ্গারু কোর্টে বিচারের নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার নাটকে আমাদের বিরুদ্ধে শাস্তিও প্রদান করা হয়েছে। আরো কয়েকটি মামলার বিচারের নামে প্রহসন চলছে। অথচ আমরা কেউ কিছু জানতে পারিনি কী অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে। আমার ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ চিঠি দিয়েছিলেন অভিযোগ সম্পর্কে তাকে জানাতে। সেই চিঠিরও জবাব দেয়নি সরকার। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে আইনের শাসনের নামে তামাশা চালানো হচ্ছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা জাতিসংঘে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি যথাযথভাবে অবহিত করার ওপর জোরদেন এ সময় । সমাবেশে বক্তৃতা বলেন,তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদন্ডের রায় ছিল। কিন্তু তাকে আদালতে সারেন্ডার করতে হয়নি। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারও দখল করেছেন। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দন্ডিত আরো কজনকে সারেন্ডারের ঘটনা ঘটেনি। ইউনূস সরকার স-সম্মানে তাদেরকে অব্যাহতির নির্দেশ দেন। এমনকি রাষ্ট্রের ৬৬৬ কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন ড. ইউনূস। ৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দন্ড ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত ছিল। সেটিকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। এভাবেই আইনের শাসনের নামে বর্বরতা আর হিংস্রতা চালানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। কোমায় রয়েছেন-এমন একজন নেতাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটছে বাংলাদেশে।
সমাবেশে শেখ হাসিনা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের সামনে কিংবা স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে বড় ধরনের সমাবেশের একটি প্রভাব সবসময়েই পড়ে। সামনের কর্মসূচিতে যেন সেটি খেয়াল রাখা হয়।
সমাবেশ চলাকালে ভিডিওকলে শেখ হাসিনাকে অংশগ্রহণকারিদের দেখিয়ে কথা বলার সমন্বয় করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। এডভোকেট মোর্শেদা জামান তাকে জানান যে, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেবেন এই কর্মসূচির পরই। মোর্শেদা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য কামনা করে বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুঃশাসনে বাংলাদেশের মানুষ অতীষ্ঠ, ক্ষুব্ধ এবং আপনাকে সকলেই স্বাগত জানাতে সংঘবদ্ধ হচ্ছে। আমরাও আপনার সাথে ঢাকায় ফিরবো বীরের বেশে আমরা অনেকেই ।
কর্মসূচিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ড. প্রদীপ করের সাথে কথোপকথনের সময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ভয়ংকর পরিস্থিতির তথ্য আন্তর্জাতিক মহলকে অবহিত করতে চলমান কার্যক্রম আরো জোরদারের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার যারা করেছি, তাদেরকে শায়েস্তার পদক্ষেপ নিয়েছে জামায়াত-বিএনপির সরকার। শুধু তাই নয়, হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছিলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় ছিলেন-সকলকে এখন এই আদালতে শাস্তির ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকান্ড চলতে দেয়া যাবে না।
মহাসচিবকে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিপন্ন হয়ে পড়ার ঘটনাবলি উল্লেখের পর তা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত লোকজনকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা এবং ইতিমধ্যেই বহু নেতা-কর্মীর মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থার সমাপ্তির লক্ষ্যে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। সভা শেষে জাতিসংঘের মহা সচিব অন্তনিও গুতেরেস এর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয় ।স্মারকলিপির
বিষয় ছিল বাংলাদেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুত্থানের লক্ষ্যে জরুরি আবেদন ।এতে বলা হয়েছে
মহামান্য, আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সৃষ্ট জরুরি পরিস্থিতির বিষয়ে অত্যন্ত সম্মানের সাথে আপনার নিকট এই আবেদনপত্রটি জমা দিচ্ছি।
আমাদের উদ্বেগের বিষয়সমূহ:
১. আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা:
ক) বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক নিপীড়ন, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির একটি হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বহুসংখ্যক সম্মানিত বিচারপতিকে অগণতান্ত্রিকভাবে পদচ্যুত করা হয়েছে এবং তাদের স্থলে বেআইনিভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
খ) প্রধানত ৩টি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হাজার হাজার ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে: (১) পূর্ববর্তী শেখ হাসিনা সরকারের সমর্থক, (২) ১৯৭১ সালের দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থানকারী জনগোষ্ঠী এবং (৩) ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। এই সমস্ত মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
গ) মন্ত্রীসভার সদস্য এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক আটক ব্যক্তি সরকারের হেফাজতে থাকা অবস্থায় জেলখানায় মৃত্যুবরণ করেছেন এবং কাউকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে, রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচার বিভাগকে অপব্যবহার করা হচ্ছে।
ঘ) সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তথাকথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করেছে এবং পূর্ববর্তী সরকারের সমর্থক ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ড বা নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে আইনি সংশোধন এনেছে। বিচারিক নিপীড়নের এই মাধ্যমটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করা উচিত। পাশাপাশি, মৃত্যুদণ্ডের বিধান রহিত করা উচিত।
ঙ) আপনি নিশ্চয়ই একমত হবেন যে একটি কার্যকরী গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য। তাই আপনার দপ্তরের উচিত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অবিলম্বে বিলুপ্ত করা, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং একটি স্বাধীন বিচার ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো।
চ) বিচার বিভাগ এবং বার অ্যাসোসিয়েশনগুলো তীব্র চাপ ও কারসাজির মুখে রয়েছে; সেখানে অবৈধ পদক্ষেপ, বর্জন ও নিপীড়নের খবর পাওয়া যাচ্ছে। হেফাজতে অবৈধ মৃত্যু এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য জাতিসংঘের উচিত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের একটি স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করা।
২. গণতন্ত্র রক্ষা:
ক) বর্তমান বাংলাদেশে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা প্রদান বা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এটি গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নীতির পরিপন্থী। তাই জাতিসংঘের উচিত বাংলাদেশে সকল রাজনৈতিক দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো।
খ) বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠান করেছে যেখানে প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয়নি। যেহেতু এই নির্বাচনটি কারচুপিপূর্ণ ছিল, তাই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা অর্থনৈতিক আস্থা কোনটিই অর্জিত হয়নি। দেশকে স্থিতিশীল করতে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য।
৩. মানবাধিকার লঙ্ঘন:
ক) রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, সাংবাদিক, আইনজীবী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর মব ভায়োলেন্স (জনতার সহিংসতা), গণ-গ্রেপ্তার ও নিপীড়নের ব্যাপক খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস, কবর ও মাজার ভাঙচুর, মন্দির, গির্জা এবং ঐতিহাসিক স্থানসমূহের অবমাননা সরকারকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড মৌলিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকারকে খর্ব করে। জাতিসংঘের উচিত আটককৃত সকল ধর্মীয় নেতা, বাউল, ফকির ও তাদের অনুসারীদের মুক্তির দাবি জানানো।
৪. উগ্রবাদী ও জঙ্গিদের উত্থান:
ক) শত শত দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিকে কারাগার থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অস্ত্র লুটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এখন সন্ত্রাসবাদের একটি প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে, যা সীমান্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। জাতিসংঘের উচিত এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করার দাবি জানানো।
৫. অর্থনীতির তো স্থবিরতা:
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী দেশ ছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে একটি গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। উগ্রবাদী মবের উত্থান, আইনের শাসনের অবনতি, ভয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশে অর্থনৈতিক স্থবিরতা, ব্যাপক বেকারত্ব, শেয়ারবাজারের ধস, দেউলিয়া পরিস্থিতি, শত শত কারখানা বন্ধ এবং সবচেয়ে বড় কথা—দারিদ্র্য ও মূল্যস্ফীতি তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আইনের শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসলে লাখ লাখ মানুষ অনাহার ও স্থানান্তরের মুখোমুখি হতে পারে। আইনের শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে জাতিসংঘের কাছ থেকে একটি জোরালো বার্তা আসা প্রয়োজন।
৬. শিশুদের মৃত্যু মহামারী:
নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করা, টিকাদান বাজেটের অর্থ লুটপাট, স্বাস্থ্য খাতের রাজনৈতিকীকরণ, স্বাস্থ্যসেবার ভেঙে পড়া এবং অবহেলার কারণে ৭০০-রও বেশি শিশুর মৃত্যুর উদ্বেগজনক প্রতিবেদন সামনে এসেছে, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জরুরি টিকাদানের সুপারিশ করেছে। বিলম্ব না করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতিসংঘের দাবি করা উচিত যেন এই অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
আমরা সম্মানিত জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারিক হত্যা, নির্বিচার আটক ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি। আপনার মহোদয়ের উচিত বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার দাবি তোলা।
মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আমরা আপনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখি এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবমর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি।