নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতা পরিষদ প্রতিবেদন: সমাজে মানুষ টিকে থাকে বিশ্বাসের প্রেক্ষিতে। এই বিশ্বাসের উপর যখন আঘাত আসে তখন মানুষ সমাজে বেঁচে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে একলা হয়ে যায়। আর আপনজনদের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতা একজন মানুষকে মানসিক দিক দিয়ে পঙ্গু করে দেয়।
মানুষ তার প্রেরণার জায়গা খুঁজে পায় নিকটাত্মীয়- প্রতিবেশি ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে। একজন মানুষ প্রকাশ্য শত্রুর সাথে লড়তে জানে কিন্তু বন্ধুবেশে শত্রুর বিরুদ্ধে সে কিভাবে লড়বে ?
ইতিহাসের পাতায় এরকম বন্ধুবেশে শত্রুতার নজির অহরহ। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আঃ) এর সাথে কারবালার যে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিলো তার পেছনে এই বন্ধুবেশে প্রবেশ করা ইসলামের শত্রুদের অপতৎপরতা অন্যতম। মক্কা বিজয়ের পর উমাইয়্যা নেতা আবু সুফিয়ান ও পুত্র মুয়াবিয়াকে মৃত্যুদন্ডের হাত থেকে মানবদরদী মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) রক্ষা করে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা করেছিলেন। আর এর প্রতিদান হিসেবে নবীরই কলিজার টুকরো ইমাম হুসাইন (আঃ) এর দেহকে ছিন্নভিন্ন করতে পিছপা হয়নি এজিদ ইবনে মুয়াবিয়া। এই হলো জান্নাতের সর্দারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।
কালের পরিক্রমায় আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসেও এমন নজির পাওয়া যায়। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের কাছে দেশের স্বাধীনতা ও অখন্ডতা বিকিয়ে দিয়েছিলো। এসব গোলামেরা সামান্য কিছু লাভের আশায় মনিবের পিঠে ছুরি মারতে দ্বিধা করেনি। তারা চেয়েছিলো জনদরদি দেশপ্রেমী নবাবের অবদানকে মুছে দিলে বা মিথ্যাচার করে মানুষের কাছ থেকে সত্যকে আড়াল করে দেওয়া যাবে, কিন্তু মানুষ এখন সত্য জানে এবং বুঝে।
ইতিহাসের পাতায় শেঠ চন্দ্র বল্লভ পরিবার, মীরজাফর মিরন ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের ষড়যন্ত্র আজ উন্মোচিত। কাছের উজির ও লোকদের কাছ থেকে ছুরিকাঘাত ইতিহাসের সেই নির্মমতাকেই তুলে ধরে। মোহাম্মদী বেগ, নবাব আলিবর্দি খাঁ- এবং সিরাজের মাতা আমিনা বেগমের পালকপুত্র, যার পরিবারের কেউই ছিলোনা, নবাব পরিবারে সসম্মানে লালিত-পালিত হয়েছে, সামান্য কিছু অর্থের জন্য জনদরদি স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করতে পিছপা হয়নি।
এই ষড়যন্ত্রের সিলসিলা যেনো এখনো চলমান। নবাব পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকেও একই ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলার নবম বংশধারা আলি আব্বাসউদ্দৌলা প্রতিনিয়ত বাংলার সেই নির্মমতার সাক্ষী। আজকের আধুনিক যুগে এসেও নবাব পরিবারের সেই বংশধারাকে মানসিক এমনকী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে! প্রতিনিয়ত নবাব পরিবারের বংশধারাকে উত্ত্যক্ত করা, খোঁচা দেওয়া, অনলাইনে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোসহ নানাবিধ প্রতিহিংসার বীজ তৈরি করা হচ্ছে!
আর এর পেছনের দেশি-বিদেশি দুষ্ট রাজনৈতিক কুশিলবেরা ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। বৈদেশিক ষড়যন্ত্রকারীরা এতে কলকাঠি নাড়াচ্ছে। এদেশে নিযুক্ত বৈদেশিক তাবেদারদের মাধ্যমে নানা ভাবে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বংশধারাকে কলংকিত করার ঘৃণ্য চেষ্টায় লিপ্ত!
রুম্মান আকবর নামের এক ‘সি’ গ্রেডের ইউটিউবার এবং তার গং এই ষড়যন্ত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। নানা রকমের ফেইক আইডি যেমনঃ ইচ্ছে পাতা, রঙ্গিন পাখি, শাফি, জর্জ, ইতিহাস কোষ, হিস্টোরী অব ক্রুসেড নামের ফেসবুক বট একাউন্ট ও পেইজ থেকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবাব পরিবারের সম্মানিত বংশধারাকে নানা রকম হুমকী ধামকী এবং তাদের গুপ্ত বাহিনী দ্বারা হানিট্র্যাপ তৈরির ঘটনাও সামনে আসে।
নবাব পরিবারের দেশপ্রেমী অষ্টম বংশধারা ইঞ্জিনিয়ার মরহুম সৈয়দ গোলাম মোস্তাতাফা সাহেবের ইন্তেকাল নিয়ে অনলাইনে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে দ্বিধাবোধ করেনি। বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা গেছে রুম্মান আকবর নামের এই কুচক্রী ব্যক্তি বিভিন্ন প্রকার বৈদেশিক এনজিওর সহায়তায় যায়োনবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
অনলাইনে বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের বিকৃতি সাধন করে মানুষের কাছ থেকে নগদ অর্থ নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ এই যে, দেশের সম্মানিত নবাবি বংশধারা এবং নবী রাসূলের কাজের কটুক্তির জন্য রুম্মান আকবরদের মতো ষড়যন্ত্রকারী বৈদেশিক চরদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানাই।