বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল কাস্টমস হাউসে পদস্থ কর্মকর্তা কর্তৃক অধস্তন কর্মচারীকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। একই সাথে এই অনৈতিক ও অসভ্য কর্মকাণ্ডের পেছনে বেনাপোল এলাকার কতিপয় অপেশাদার সাংবাদিকদের একপক্ষীয় ভূমিকা ও ‘অপসাংবাদিকতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার সরফুদ্দিন কর্তৃক তার অধস্তন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে কর্তব্য অবহেলার অজুহাতে লাথি মারা ও শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে। একটি স্বাধীন ও আইনি কাঠামোর রাষ্ট্রে সরকারি কর্মস্থলে এমন ঘটনা কেবল চরম অপেশাদারিত্বই নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকার ও সভ্যতার সব সীমা লঙ্ঘনের শামিল।
যেকোনো প্রতিষ্ঠানে অধস্তন কর্মচারীর কাজে গাফিলতি বা প্রশাসনিক ভুল থাকলে তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান কাস্টমস আইন ও সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কারণ দর্শানো (শো-কজ), সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নিজ হাতে অধস্তনকে মারধর করা কোনোভাবেই একজন দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আচরণ হতে পারে না।
তবে ঘটনাটিকে আরও বেশি বিতর্কিত ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে পরবর্তীতে কতিপয় অপেশাদার সাংবাদিকদের ভূমিকা। ঘটনার পর কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও কথিত অপসাংবাদিক ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এই অনৈতিক ও মারমুখী আচরণকে ‘বীরত্ব’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে তাকে প্রশংসায় ভাসাতে শুরু করে।
আইন ও সভ্যতার তোয়াক্কা না করে এক কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলাকে এভাবে ‘বীরত্ব’ বা প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে জাহির করা সুস্থ সাংবাদিকতা ও নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের নির্দেশক। পেশাগত নৈতিকতা এবং সুশীল সমাজের মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা এ ধরনের অসভ্য ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের সমর্থন বা বাহবা দিচ্ছেন, তারা নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন না করে মূলত ‘অপসাংবাদিকতায়’ লিপ্ত হয়েছেন।
আইনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখানো যেমন অপরাধ, তেমনি একজন অনৈতিক কাজ করা মানুষকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে ‘বীর’ উপাধিতে ভূষিত করাও সমান অপরাধ।
সাধারণ নাগরিক ও প্রশাসনিক সচেতন মহল মনে করেন, পেশাগত বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে অপসাংবাদিকতা রোধ করতে হবে এবং সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। একই সাথে অবিলম্বে এই শারীরিক নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কর্মস্থলে শক্তির দাপট নয়, বরং আইনের শাসন ও পেশাদারি বজায় থাকে।