শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক) : যশোরের কেশবপুরে মাছের খাদ্য হিসেবে পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা বহন করার অপরাধে দুই নসিমন চালককে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতটি পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, পাশ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার কোমলপুর গ্রামের গফফার মোড়ল এর ছেলে মাহাবুব (৩৮) ও ঘুটুদিয়া গ্রামের সাত্তার বিশ্বাসের জাহিদুল ইসলাম (৩৮) মাছের খাদ্য হিসেবে প্লাস্টিকের ৩৫ ড্রাম পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা নসিমনে বোঝাই করে নিয়ে কেশবপুর উপজেলার ৯নং গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ভেরচী বাজার সংলগ্ন এলাকায় আসছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পোল্ট্রি মুরগীর বিষ্ঠাসহ দুই চালককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ওইসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে মৎস্য ও মৎস্য পণ্য পরিদর্শন ও মান নিয়ত্রণ আইন-২০২০ এর ৩১(২) ধারা অনুযায়ী মাহাবুবকে দুই হাজার টাকা এবং জাহিদুল ইসলামকে ২’হাজার ৫শত টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করে তা আদায় করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও স্থানীয় কোন মাছের ঘেরে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এনেছেন সেটা স্পট করে জানা যায়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কেশবপুর থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, মাছের খাদ্য হিসেবে পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা বহন করার অপরাধে দুই নসিমন চালককে জরিমানা করা হয়েছে। মাছের খাদ্য হিসেবে পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করা আইনানুগ অপরাধ। পোল্ট্রি মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করা সেইসব খামারের মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রবেশ করে, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বিশেষ করে কিডনি ও লিভারের বেশি ক্ষতি করে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।