সাদী মোহাম্মদ, আমেরিকা ঃ আসছে ৮ মে রাজবাড়ী জেলার অন্তর্গত পাংশা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নির্বাচনে যাহারা প্রার্থী হয়েছেন তাহারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতা। সকলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত জননেত্রী শেখ হাসিনার সৈনিক। এখানে অন্য কোন দলের কেউ নাই। ৮ তারিখের নির্বাচনে যিনি জিতবেন তিনিও আওয়ামী লীগার আবার যিনি পরাজিত হবেন তিনিও আওয়ামী লীগার। অর্থাৎ নির্বাচন হচ্ছে আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ বলা চলে।
কিন্তু নির্বাচন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের মধ্যে হলেও পাংশা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দেশের অন্যান্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে যেন একটু বেশিই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। খবরে প্রকাশ বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ ফরিদ হাসান ওদুদ এবং তার কর্মীদেরকে রেল মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব জিল্লুল হাকিমের ছেলে জনাব মিতুল হাকিম ও তার লোকবল নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। যে ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন থেকে জনাব মিতুল হাকিমকে শতর্ক করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশও হয়েছে। উল্লেখ্য আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী জনাব খোন্দকার সাইফুল ইসলাম ওরফে বুড়ো জনাব মিতুল হাকিম এবং তার পিতা মাননীয় রেলমন্ত্রী জনাব জিল্লুল হাকিমের মনোনীত প্রার্থী। জনাব বুড়োর হয়ে মিতুল হাকিম সরাসরি নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। তার হয়ে ভোট চাইছেন। এবং বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী দলীয় নেতা কর্মীদেরকে ডেকে এনে খোন্দকার সাইফুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচন করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, নির্দিষ্ট কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া কিম্বা ভোট দেয়া প্রত্যেক নাগরিকের নাগরিক অধিকার। এব্যাপারে জনাব মিতুল হাকিমের প্রতি কোন অভিযোগ নাই। কিন্তু মন্ত্রীপুত্র হয়ে নির্দিষ্ট কোন প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে অন্য কোন প্রার্থী বা তার কর্মীদের হুমকি ধামকি দেয়া অথবা হয়রানি করা নির্বাচনী আচরণের পরিপন্থি। এমন অভিযোগ কিম্বা অনুযোগ কোন ভাবেই জনাব মিতুল হাকিমের জন্য শোভনীয় নয়। রাজবাড়ী জেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত আওয়ামী নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মাননীয় রেলমন্ত্রী জনাব জিল্লুল হাকিমের ছেলে হিসেবে মিতুল হাকিমের রাজবাড়ী তথা পাংশার রাজনীতিতে অবশ্যই একটা অবস্থান রয়েছে। তিনি রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের একজন সক্রীয় সদস্যও বটে। পিতার পাশে থেকে জনাব মিতুল হাকিম রাজনীতি করবেন। আপামর জনগণের কল্যাণে তাদের পাশে থাকবেন এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন রকম অন্যায় অনিয়ম অপরাজনীতির অভিযোগ উঠা কোন ভাবেই প্রত্যাশিত নয় শোভনীয় নয়।
রাজনীতিতে নেতা হতে হলে অবশ্যই নানা রকম ইতিবাচক কাজ কর্ম দিয়ে সাধারণ জনগণের মন জয় করে আসতে হয়। জোরজবরদোস্তি করে সাময়িক সময়ের জন্য নেতা হওয়া গেলেও তা বেশিদিন টেকে না। রাজনীতির মাঠে আপামর সাধারণ জনগণের মন জয় করার কোনই বিকল্প নাই। এই কথাগুলো মনে রেখে মিতুল হাকিম রাজনীতি করবেন বলে সকলের প্রত্যাশা। বাবা জিল্লুল হাকিম পরবর্তি রাজনীতির হাল ধরতে হলে মিতুল হাকিমকে আরও বেশি পরিপক্ক হতে হবে সংযমী বা সহনশীল হতে হবে। নানা রকম ইতিবাচক কাজ দিয়ে তাকে দলীয় সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের পাশে থাকতে হবে। অনেক বেশি মানবিক হতে হবে। আমরা মিতুল হাকিমকে একজন জনদরদী মানবিক নেতা হিসেবে চাই। রাজনৈতিক প্রভু হিসেবে নয়।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোন প্রার্থীর হয়ে অবৈধ কোন প্রভাব বিস্তার করার মাধ্যমে মিতুল হাকিমের রাজনীতিতে কোনভাবেই ইতিবাচক কিছু যোগ বা অর্জন হবে বলে মনে হয় না। রাজনীতিতে দল উপদল ভিন্ন মত অবশ্যই থাকবে তবে বড় নেতা হতে হলে সকলের মতামতকে সম্মান করে সর্বজনের নেতা হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। নির্দিষ্ট কোন পক্ষে যাওয়া মানেই নিজেকে ছোট করে ফেলা। নেতা না হয়ে উপনেতা হওয়া। জনাব মিতুল হাকিমের মনে রাখা উচিত যে যোগ্যতা থাকলে রাজনীতিতে কেউ কাউকে দমিয়ে রাখতে পারে না। একজন প্রতিষ্ঠিত যোগ্য রাজনৈতিক বাবার পরিচয়ে মিতুল হাকিমের জন্য যে শক্ত প্লাটফর্ম তৈরি রয়েছে সেটির সঠিক ব্যবহার করতে পারলে উপজেলা নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোন প্রার্থীর হয়ে সরাসরি প্রভাব বিস্তারের কোন প্রয়োজন মিতুল হাকিমের আছে বলে আমার মনে হয় না।
আর তাছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের যেকেউই প্রার্থী হতে পারবেন। সেক্ষেত্রে মন্ত্রী এমপিদের কোন রকম হস্তক্ষেপ বা পক্ষ বিপক্ষ অবলম্বনের সুযোগ নাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যার জনপ্রিয়তা বেশি সে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসবেন। আর সুষ্ঠু্ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দল এবং নির্বাচন কমিশন উভয়ই প্রতিশ্রুতবদ্ধ। আগামী ৮ তারিখের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে কোন রকম অনিয়মের সুযোগ থাকবে বলে মনে হয় না। ভোটাররা নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে নির্ভয়ে যে যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। পাংশা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনও এর ব্যাতিক্রম হবে না এটা নিশ্চিত।
আগামী ৮ তারিখে পাংশা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সকল বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করে সুষ্ঠু ভাবে সম্পূর্ণ হবে। যার জনপ্রিয়তা বেশী জনগণ যাকে যোগ্য ভেবে ভোট দিবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন অতি দৃঢ়ভাবে এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করছি।
# আগামী ৮ তারিখে পাংশা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হোক সকল প্রকার অবৈধ চাপ ও প্রভাব মুক্ত। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সকলের প্রত্যাশা।