বেনাপোল বন্দরে রহস্যময় পণ্যের মজুত: কার যোগসাজশে সুরতি এলাকায় নথিপত্রহীন পণ্য?

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও কাস্টমস তল্লাশিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩৭ নম্বর শেডে খুঁজে পাওয়া গেছে রহস্যময় ১৯ প্যাকেজ পণ্য। গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে কাস্টমস, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে এই পণ্যের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে। সুরতি এই এলাকায় দিনের পর দিন কীভাবে নথিপত্রহীন পণ্য মজুত থাকল, তা নিয়ে বন্দরজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ম্যানিফেস্ট নম্বর ৩৮-৩১/১ এবং ৪১-৯/১-এর নিলামযোগ্য পণ্যের আড়ালে বিশেষ কৌশলে পলিপ্রপিলিন (চচ) দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল এসব পণ্য। জব্দকৃত পণ্যের তালিকার মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ শাড়ি (গর্জিয়াস, প্রিমিয়াম, সুপার, মিডিয়াম ও অর্ডিনারি), থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, ওড়না ও শিশু পোশাকসহ কসমেটিকস। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০৪.০৫ কেজি ওজনের এসব পণ্যের নথিপত্র বা আইনি কোনো বৈধতা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে নেই।

অভিযানের সময় বর্তমান শেড ইনচার্জ আবুল খায়ের পণ্যগুলোর বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তার দাবি, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় আগের ইনচার্জ শাহজাহান তাকে এই পণ্যগুলো বুঝিয়ে দেননি। একে অপরের ওপর দায় চাপানোর এই প্রবণতাকে দায়িত্বহীনতার চরম নিদর্শন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইআর টিমের সুপার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। শুল্কমুক্ত বা উচ্চ শুল্কের পণ্য অসাধু উপায়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বা বাইরে থেকে পণ্য বন্দরের ভেতর প্রবেশ করিয়ে জালিয়াতির ত্রে তৈরির উদ্দেশ্যে এই মজুত করা হতে পারে।” বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কাস্টমস সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমান জানান, বর্তমানে ইনভেন্ট্রি কার্যক্রম চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে পণ্যের প্রকৃত বাজারমূল্য এবং এর পেছনের মূল হোতাদের শনাক্ত করা সহজ হবে।

শুল্ক স্টেশনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের রহস্যময় মজুত বন্দর কর্তৃপরে নজরদারি ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি কাস্টমস ও বন্দরের নাকের ডগায় এভাবে পণ্য লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়, তবে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরিই প্রশ্নবিদ্ধ। এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে রাজস্ব তি ও চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *