বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক থেকে টনকে টন খৈল উধাও হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পণ্যচালানটিতে ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে তিন টনের বেশি খৈল কম পাওয়ায় বন্দর ও কাস্টমস এলাকায় তোলপাড় চলছে। নেপথ্যে কোনো বড় চোরাচালানি চক্রের কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভারত থেকে ‘মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে ১০ টন ৯০ কেজি সরিষার খৈল নিয়ে একটি ট্রাক (নং- ডব্লিউবি-২৫কে-৮৪১৫) গত ২৩ জুন রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। ২৫ জুন সকালে কার্গো টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর ট্রাকটিকে ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অতুল গোস্বামী জানান, ট্রাকটিতে থাকার কথা ছিল ১০ টন ৯০ কেজি খৈল, কিন্তু পাওয়া গেছে মাত্র ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। অর্থাৎ ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈল গায়েব হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “পণ্যচালানটির এই ঘাটতি অস্বাভাবিক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বন্দর সংশ্লিষ্টদের মনে এখন প্রধান প্রশ্ন হলো—ট্রাকটি থেকে খৈল সরানোর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, খৈলের বস্তার আড়ালে শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকসের মতো উচ্চ শুল্কের পণ্য অথবা মাদকের মতো নিষিদ্ধ কোনো কিছু ভারত থেকে পাচারের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পণ্য নামিয়ে নেওয়ার সময় হয়তো খৈলের বদলে অন্য কিছু খালাস করে নেওয়া হয়েছে, যা এখন রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল’ বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারক চক্র এ কাজ করেছে। ঘটনার সাথে তাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত নন। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক খলিলুর রহমান জানান, সন্দেহজনক পণ্যচালানটি তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পণ্য চুরির উৎস এবং ট্রাক থেকে ঠিক কী কী সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনা বন্দর এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।