রুমায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১২পরিবার পুড়ে ছাই বান্দরবান

রুমা প্রতিনিধি, বান্দরবনঃ বান্দরবানের রুমায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১২পরিবার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরে থাকা স্বর্ণের গয়না ও গোলা ভরা ধান সহ ৫০ লক্ষের অধিক সয়-সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে রুমা সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দুর্গম ঠান্ডাঝিরি (রিখ্যাইন) পাড়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়। পাড়াটি রুমা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দুরে।
ওই পাড়ার ছামংউ মারমা ঘরে চুলা থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

দুপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুনার পর তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুম্রাউ মারমা, রুমা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শৈমং মারমা, রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক উ নাইনাদিয়া ভান্তে, মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও রুমা সাঙ্গু সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক সুইপ্রুচিং মারমা, সাংবাদিক নিলিয়ান বম, রুমা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অংচওয়াং মারমা ও রুমা বাজার আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংমং মারমাসহ মানবতা কর্মীরা দুপুর ১টার দিকে ঠান্ডাঝিরি পাড়ার অগ্নিকান্ডের সংঘটিত ঘটনা স্থলে পৌঁছেন।

ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুম্রাউ মারমা *পাহাড়বার্তা’কে* বলেন এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঠান্ডাঝিরি পাড়া ১২ টি পরিবারের সম্পূর্ণ সয়-সম্পতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ তালিকা করা হচ্ছে। আনুমানি ১২টি পরিবারের সোনা গয়না ও ধানসহ ৫০ লক্ষাধিক সম্পদ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে দুইটি পরিবার সবচেয়ে বেশি। তাদের মধ্যে এক পরিবারে মোট ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ প্রায় ১২ লক্ষাধিক সম্পদ ও আরেক পরিবারের মোট আট লক্ষাধিক সম্পদ ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সব সদস্য তাদের জাতীয় পরিচয় পত্র ও জন্মনিবন্ধনসহ শিক্ষাথীদের মধ্যে অনেকে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড ও সনদ পুড়ে গেছে।

অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক উ নান্দিয়া ভান্তে পাহাড়বার্তা ‘কে বলেন তাঁর প্রতিষ্ঠান অগ্রবংশ অনাথালয়ের পক্ষ থেকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৫৫টি শীত নিবারনের জন্য কম্বল বিতরণ করছেন।

সূত্রমতে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ প্রতি পরিবারকে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি করে ডাল ও তেল বিতরণ করেন।
রুমা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মারমা তাঁর তহবিল থেকে তাৎক্ষনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ১০০ কেজি চাল ও আলু ৫০কেজি বিতরণ করেন।
এদিকে মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুইপ্রুচিং মারমা ও রুমার বাঙ্গালী ঐক্য সমিতির মূখ্য নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পাহাড়বার্তা ‘কে বলেন মানবিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ঠান্ডাঝিরি পাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বা চাহিদা মোতাবেক ত্রাণ দেয়া হবে।

অন্যদিকে অগ্রবংশ অনালয়ের পরিচালক উ নাইন্দিয়া বলেন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ সব পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে পরিচিত আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে ঘর করে দেয়া হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন শিবলী তাঁকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *