মোঃ আনিছুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসা ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে প্রতিনিয়ত মাদক দ্রব্যের কেনাবেচা চলছে। যশোরের শার্শা উপজেলার রুদ্রপুর, গোগা, বারপোতা, পুটখালী, গাতিপাড়া, বেনাপোল পৌর গেটসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারত থেকে আসা ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা ও ইয়াবার অবাধ কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্তকে মাদকের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারোপোতা গ্রামের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। ৫ই আগস্টের পর তাদের সঙ্গে আরও নতুন কিছু মাদক ব্যবসায়ী যুক্ত হয়েছে, ফলে এই ব্যবসা আরও প্রসার লাভ করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক ব্যক্তি বলেন,গাতিপাড়ার শিল্পী বেগম, ভুলোট এর সাবুর আলী, তরিকুল মেম্বার, গাতিপাড়ার দুদু রুদ্রপুর এর হানিফ ও কুতুব আলী দুই সহদও এবং বারোপোতার বিখ্যাত মাদক ব্যবসায়ি মোমিন মেম্বার পলাতক থেকে এ ব্যবসা তার অনুসারিদের দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।
গাতিপাড়া তের ঘর (সীমান্ত) এলাকায় ৬ মার্চে ভোরবেলা ৪ থেকে ৫ রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, অজ্ঞাত চোরাকারবারীরা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিএসএফ গুলি চালায়। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত এলাকায় প্রায়শই ঘটছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সীমান্তের কিছু কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বেনাপোল ও আশপাশের এলাকায় মদ ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করেন। একই এলাকার কিছু নারীও মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
অগ্রভুলট সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল ও মদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া, গোগা এলাকায় ১০/১২ জনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা ভারতীয় মাদক বাংলাদেশে পাচার করে।
প্রশাসনের অভিযানে মাদকের চালান আটক:বিজিবি একাধিকবার মাদকের চালান আটক করেছে। ৭, ১০ ও ১৮ফেব্রুয়ারিতে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় ছোট-বড় মাদকের চালান জব্দ করে। প্রশাসনের এসব অভিযান জনগণের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আনলেও পুরোপুরি মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় অংশে মাদকের অন্তত ১৫ টি কারখানা গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। এসব কারখানা থেকে উৎপাদিত ফেনসিডিল, মদ ও অন্যান্য মাদক বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছে। বর্তমানে একটি ফেনসিডিল ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মাদক একাধিক হাত বদলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শহরে পৌঁছে যায়। নাভারণ বাজারকে প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে রুদ্রপুর-গোগা-জামতলা হয়ে মাদক সরবরাহ করা হয়। এছাড়া, বেনাপোলের লোকাল ও ঢাকা গামী ট্রেনেও মাদক চোরাচালান হয়।
বেনাপোল ইউনিয়নের কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা ও ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তাদের সহযোগীরাও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন।
বেনাপোল পৌর গেটে মাদকদ্রব্য বিক্রয় চলছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের চায়ের দোকানের আড়ালে মাদকের ব্যবসা চলে। যশোর শহরের ধনীর দুলালরা ফেনসিডিল সেবন করতে আসেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে। এছাড়াও কাগজপুকুর কাগমারি রেল ক্রসিং-এর পাশে ইয়াবা বিক্রয় করা হয়।
সীমান্তবর্তী গ্রাম পুটখালী দীর্ঘদিন ধরে মাদক, সোনা ও গরুর চোরাচালানের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদকের ব্যাপক বিস্তার যুব সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান সত্ত্বেও মাদক ব্যবসা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের চক্র ভেঙে ফেলতে হলে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদপে গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।