বেনাপোলে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা: ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

বেনাপোল প্রতিনিধি:  প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। একাধিক মামলার আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছ তাদের অবৈধ কারবার। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বেনাপোলের বিভিন্ন স্থানে মাদকের বিস্তার ঘটলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে বেনাপোল পোর্ট থানার ঠিক পূর্ব পাশের এলাকা ভবারবেড় গ্রামের পরিস্থিতি।

স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবারবেড় গ্রামে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের রমরমা বাণিজ্য চলছে। এর মধ্যে কুলসুম ও তানজিলা নামের দুই নারী মাদক ডিলারের নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তারা পুরো এলাকায় নিয়মিত মাদক সাপ্লাই দিলেও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদপে না থাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। থানাসংলগ্ন এলাকায় এমন কারবার চললেও পুলিশের কার্যকর অভিযান না থাকায় ােভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সাগরিকা ও তানিজিলা দুই জন সহোদর। সাগরিকার স্বামী ইশারাত ভারত থেকে ফেনসিডিল আনার সময় বিএসএফ এর  গনপিটুনিতে মারা যায় কয়েক বছর আগে। তিন দিন পর ইশারতের লাশ ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার করে বিজিবি ও পুলিশ। এদিকে গোগা ইউনিয়নের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ি কালামের সাথে তানজিলা ও সাগরিকা ব্যবসা করতে করতে তানজিলার সাথে কালামের বিয়ে হয়। এরপর একটি সন্তান হওয়ার মাদকের টাকা পয়সা নিয়ে তাদের বনি বনা না হওয়ায় ডিভোর্স হয়ে যায়।

ভবারবেড় গ্রামের আনাচে-কানাচে মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবসমাজ দ্রুত ধ্বংসের মুখে পতিত হ”েছ। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে এই মাদকের আগ্রাসন রোধ করা না গেলে সামাজিক অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মঞ্চে উঠে মাদক নির্মূলের বিষয়ে তীব্র ও অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় প্রধান স্লোগানগুলোর একটি ছিল ‘মাদক মুক্ত সমাজ গঠন’। অথচ ভোটের মাঠের সেই গরম বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়নি। উল্টো রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিচয়ের ছত্রছায়ায় শার্শা-বেনাপোল সীমান্তাঞ্চলে মাদকের বিস্তার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পূর্বে মাঝে মাঝে ডিবি পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি এই মহল্লায় অভিযান পরিচালনা করে কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করলেও বর্তমানে জোরালো কোনো তৎপরতা নেই।

স্থানীয় জনগণের জোর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে প্রশাসন যেন অবিলম্বে কঠোর হস্তে এসব চিহ্নিত মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনে এবং যুবসমাজকে রা করতে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করে। ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *