জাতিসংঘের অধিবেশন ঘিরে || ম্যানহ্যাটানে বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ

হাকিকুল ইসলাম খোকন, আমেরিকা :  জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে সবচেয়ে আলোচিত উপস্থিতি ছিল ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর। ইরান আক্রমণের মূল বুদ্ধিদাতা এবং প্রধান সহযোগী এবং গাজা গণহত্যা ও বেদখলের নাটের গুরু তিনি। তার নিরাপত্তায় তো বটেই এবং তার উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য নিউইয়র্ক পুলিশকে অতিরিক্ত সতর্কতাসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় বৃহস্পতিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন সাধারণ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন তখন এই মিলনায়তনটি প্রায় পূর্ণ ছিল। কিন্তু রোস্ট্রামে দাঁড়ালে প্রথমে তার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়ার পর হট্টগোল শুরু হয়। তারপর অধিকাংশ প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তিনি যে সিটিতে অবস্থান করে সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছিলেন, সেই সিটির মেয়রকে ধমক দেন এবং তাঁকে এ্যান্টিসেমিটিক বলে আখ্যায়িত করেন।
বেনজামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ ভবনে পৌঁছার আগে থেকে জাতিসংঘের সামনের রাস্তা প্রতিবাদ—বিক্ষোভে মুখর হয়ে ওঠে। ব্রায়ান্ট পার্ক থেকে প্যালেস্টাইনিরা বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ফর্টিসেকেন্ড স্ট্রিট ধরে জাতিসংঘের দিকে যায়। ইউনিয়ন স্কয়ারে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। সেকেন্ড এভেন্যুসহ ড্যাগ হ্যামারশোল্ড প্লাজায় হাজার হাজার মানুষ তার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে। যদিও অল্প সংখ্যক মানুষ নিরাপদ দূরত্বে বেনজামিনের পক্ষে এবং প্যালেস্টাইনিদের বিপক্ষে শ্লোগান দিচ্ছিল। তবে অনেক ইহুদি এবং ইসরাইলি বেনজামিনকে মানবতাবিরোধী বলে উল্লেখ করে টিভি সাংবাদিকদের কাছে।
নিউইয়র্ক পুলিশের বরাত দিয়ে ডেইলি নিউজ বলছে, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল থেকেই মিডটাউন ম্যানহ্যাটানের ইস্ট সাইড প্রতিবাদী মানুষের ভিড়ে অন্য এক চেহারা ধারণ করে। এই প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ছিলেন অনেক স্থানীয় রাজনীতিক, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং সেলিব্রেটি। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেশনাল প্রার্থী ডারিয়ালিজা এভিলাসহ চেলসি ম্যানিং, অভিনেতা সুজান স্যারানডন, হান্নাহ আইনবিল্ডার, এলিয়ট পেইজ, কাউন্সিলসদস্য ওসি প্রমুখ। ট্রাফিক চলাচলে বাধা দেয়ায় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পুলিশ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে ফাস্টর্ এভেন্যু, ৩৯ স্ট্রিট, ড্যাগ হ্যামারশোল্ড প্লাজা, ৪২ স্ট্রিট এবং সেকেন্ড এভেন্যু থেকে।

প্রতিবাদকারীরা নেতানিয়াহুকে ‘ডেমন’ বলে উল্লেখ করে তার অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলা হয় ‘আমরা এখানে প্রতিবাদ করছি যুদ্ধের বিরুদ্ধে। স্টপ জেনোসাইড। আমাদের ডলার যুদ্ধের জন্য নয় হেলথ—কেয়ার, হাউজিং ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করতে হবে। তারা বলেন, উই সে নো টু নেতানিয়াহু, নো ওয়ার ক্রিমিনালস ইন নিউইয়র্ক সিটি। ’Executive Branch প্রতিবাদকারীরা নেতানিয়াহুর ভাষণ শেষ হলে ধীরে ধীরে চলে যায়। এরপর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড প্লাজা পার্কে সমবেত হয় বাংলাদেশীরা। সরকার পক্ষের সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে শ্লোগান দেয় আর সরকার বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে এবং শেখ হাসিনা ও শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে শ্লোগান দেয়। তবে কঠোর পুলিশী প্রহরার কারণে সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারেনি। যেমন গত রবিবার থেকেই জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকরা মুখোমুখি হলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মারমুখী পরিস্থিতি সামাল দেয়। বুধবার রাতেও ৭৩ স্ট্রিটে বিপুল সংখ্যক আওয়ামী সমর্থকদের সমাগম হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *