বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান এমপি দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল পরিদর্শন করেছেন। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন। সফরকালে তিনি বন্দরের বিভিন্ন শেড, কার্গোভেহিক্যাল মাঠ এবং টিটিআই মাঠ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে দেশের রাজস্ব আয়ের একটি বড় অংশ আসে। এখানে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপরে পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন। এই বন্দরের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।”
বর্ষা মৌসুমে জলজট, শেডে পানি ঢুকে আমদানিকারকদের কোটি কোটি টাকার পণ্য তি হওয়া, খোলা আকাশের নিচে পণ্য রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হওয়া এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা বা চিকিৎসার সুব্যবস্থা না থাকা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আমি প্রথমবার বেনাপোল বন্দর পরিদর্শনে এসে এখানকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়েছি। আপনারা নিশ্চিত থাকুন এখানে দ্রুত চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতাল স্থাপন, আধুনিক শেড নির্মাণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থলপথে দেশের সিংহভাগ পণ্য এই বন্দর দিয়েই আমদানি হয়। তাই বন্দরের সমতা বৃদ্ধিতে যা যা প্রয়োজন, তার সবই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে।
এর আগে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর কাছে বন্দরের নানা সংকট তুলে ধরেন। তিনি বন্দরে অনিয়ম প্রতিরোধ, কাস্টমসের হয়রানি বন্ধ এবং দ্রুত পণ্য খালাসের দাবি জানান। তিনি বলেন, “সময়মতো কাঁচামাল গন্তব্যে না পৌঁছালে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি বন্দরে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা জরুরি। বেনাপোল বন্দর যত বেশি গতিশীল হবে, দেশের রাজস্ব আয়ও তত বৃদ্ধি পাবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মানজারুল মান্নান (অতিরিক্ত সচিব) বেনাপোল স্থল বন্দরের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন, সহকারী পরিচালক সঞ্জয় কুমার, বেনাপোল সিএন্ড এফ এ্যাসোসিয়েশন এর সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন প্রমুখ।