মাগুরা প্রতিনিধি খন্দকার নজরুল ইসলাম মিলন: মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব তোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও কৃষকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার করায় কৃষক, উদ্যোক্তা ও ডিলারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
যোগদান করেই সরকারি গাড়ীর অপব্যবহার
স্থানীয় সুত্র থেকে জানা গেছে।প্রথম থেকেই তিনি সরকারি গাড়ী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে আসছিলেন। এ ঘটনাটি গণমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পরও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং বেপরোয়া ভাবে সরকারি গাড়ী সে তার শশুরবাড়ী মহম্মদপুর টু ফরিদপুর বিভিন্ন শপিংমল, রেস্টুরেন্ট সহ ভ্রমণ বিলাসী ভাবে অবাদে চলাচল করছে।
বাংলাদেশ সরকার গত ২৯ মে ২০২৫ প্রজ্ঞাপন জারি করে ইউক্যালিপটাস গাছের চারা বিক্রি নিষিদ্ধ করলেও, তোজাম্মেল হোসেন অর্থের বিনিময়ে মাগুরা সদরের বিভিন্ন নার্সারিকে এসব চারা বিক্রির সুযোগ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরজমিনে নার্সারীতে ইউক্যালিপটাস গাছের চারা মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রদর্শনী প্রাপ্ত কৃষক জানান তিনি কৃষি খামার পরিদর্শন করেন না, প্রয়োজনীয় পরামর্শর অভাবে প্রদর্শনী প্লটসহ অন্যান্য ফসল লাভ জনক ভাবে চাষাবাদ করতে পারেন না। কৃষকরা অভিযোগ করেন প্রদর্শনীর উপকরণ ঠিকমত দেওয়া হয়না। সাইন বোর্ডে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করার কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে কৃষকের অভিযোগ কোন জৈব্য বালাই নাশক তারা পায় না।
নাসির এগ্রোফার্মেও মালিক জনাব নাসির উদ্দিন জানান প্রদর্শনীর সারসহ অন্যান্য উপকর বা মালামাল পাননি। এবং প্রদর্শনী খামার ভিজিট করার অনুরোধ জানালেও এই পর্যন্ত তার খামার ভিজিট করেননি ।
যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আলাইপুরের কৃষক কায়া রানী, সত্যপুরের কৃষক জনাব শাাহাজাহান, অঙ্গরদহ আতিয়ার রহমান ,বরই কৃষক সাগর শেখ ও আলাইপুর কৃষক ভক্ত জানান কলা পদর্শনীতে নিরাপদ ফল উৎপাদনের সাইনবোর্ড দিলেও কলার ব্যাগ বা কোন জৈব সার পায়নি বলে অভিযোগ করেন। উক্ত কৃষকরা প্রশিক্ষনের সময় জানতে পারেন কলা উৎপাদন নিরাপদ রাখতে ব্যাগ ব্যবহার ,যা প্রদর্শনী হতে পারে বলে জানতে পারেন।
এছাড়া ও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, বীজ চারাসহ সব উপকরণ কৃষকদেও যা প্রাপ্য তার থেকে অনেক কম দেওয়া হয়। বিষয়টি যখন আমরা জানতে চাই যে কিভাবে আপনারা জানেন যে, আপনি কতটুক পরিমানে পাবেন। তখন কৃষক জানান আমাদের কাছ থেকে একটি খাতায় স্বাক্ষর নেন যেখানে উল্লেখ থাকে কতটুক আমরা গ্রহণ করলাম বাস্তবে তার সাথে কোন মিল পাই না।
আলাইপুর কৃষক জানান তিনি প্রতিদিন দুপুরে একএক জন কৃষক ডেকে ভাল মানের খাবার গ্রহণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্চুক একজন উপসহকারী কর্মকর্তা জানান তিনি পারিবারি পুষ্ঠি বাগানের ৩৪০টি পুষ্টি বাগানের সমুদয় অর্থ প্রদর্শনী না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিআইসি সার ডিলার জানান উপজেলা কৃষি অফিসারকে নিয়মিত মাশোয়ারা দেওয়া হয় এই মর্মে যে, সার ডিলারদের ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করবে না। সেই সুযোগে বিসিআইসি সার ডিলারগণ সার বেশি দামে বিক্রয় করছেন এবং কালো বাজারি করার সুযোগ পেয়েছেন।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, যেকোনো সেবা নিতে গেলে উপজেলা কৃষি অফিসার অনৈতিক সুবিধা দাবি করেন। অনেক সময় দুপুরের খাবারের আয়োজন করতে বলেন। সাম্প্রতিক বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা তার কাছে গেলে তিনি সহযোগিতা না করে উল্টো খারাপ ব্যবহার করেছেন। এবং অফিসে কোন সেবার জন্য গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেও তাহার সাক্ষাৎ পাওয়া খুবই দুর্লভ হয়ে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব তাজুল ইসলাম এসব বিষয় নিয়ে তোজাম্মেল হোসেনকে পরপর তিনটি শোকজ নোটিশ জারি করে। তবে এতকিছুর পরও তিনি কোনো সংশোধন করেননি।
কৃষক ও উদ্যোক্তারা জানান, একজন উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছ থেকে সেবা ও সহযোগিতা পাওয়ার কথা থাকলেও তোজাম্মেল হোসেন উল্টো কৃষকদের শোষণ করছেন। তার দুর্নীতির কারণে কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দ্রুত দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন তারা।
মাগুরা খামারবাড়ীর উপপরচিাল জনাব তায়জুল ইসলাম বলেন অভিযোগের সতত্য প্রমানতি হলে আমরা তার বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। অন্যদিকে সদররে কৃষি অফিসার বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভযিোগ মিথ্যা, এই সম্পর্কে আমি কিছু্ই জানিনা ।