হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিনিধি আমেরিকা : রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহবায়ক এডভোকেট এএনএম ঈসা ও সদস্য সচিব এমএ রউফ এক বিবৃতিতে বলেছেন,দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিরোধ,একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে যখন কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তা দুর্নীতি, ঘুষ কিংবা অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়ে,তখন তাকে পুরস্কৃত করার মতো করে অন্য স্থানে বদলি বা পদোন্নতি দেওয়া কেবল অনৈতিকই নয়,বরং তা দেশের সমগ্র বিচারব্যবস্থা এবং সুশাসনের মুখে এক চরম চড়।বিশ্বের বুকে যখন যেকোনো অপরাধের জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়াটা একটি স্বাভাবিক নিয়ম,সেখানে আমাদের বাংলাদেশে অপরাধীকে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে সরিয়ে দিয়ে আড়াল করার এই নোংরা সংস্কৃতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।এই ধরনের “বদলি কালচার” বা পরোক্ষ পদোন্নতি আসলে দুর্নীতিবাজদের আরও বেশি উৎসাহিত করে এবং সৎ কর্মকর্তাদের মনোবল পুরোপুরি ভেঙে দেয়।একটি প্রতিষ্ঠান বা বিভাগের আবর্জনা অন্য বিভাগে স্থানান্তরিত করলেই সেই আবর্জনা সুবাস ছড়ায় না, বরং পুরো ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন ধরায়।বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ আজ করের টাকা দিয়ে এই সব দুর্নীতিবাজদের বিলাসী জীবনযাপনের খরচ জোগাতে বাধ্য হচ্ছে, অথচ বিনিময়ে মিলছে কেবল হয়রানি আর বৈষম্য। এই লজ্জাজনক ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এখন অতি জরুরি হয়ে পড়েছে ।আমাদের মত সাধারণ জনগণের সবার দাবি দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া মাত্রই কোনো রকমের সহানুভূতি না দেখিয়ে অপরাধীকে সরাসরি চাকরি থেকে আজীবনের জন্য বরখাস্ত করতে হবে এবং তাদের সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অতি দ্রুত এগুলোকে নিলামে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে খুব কম সময়ের মধ্যে।এগুলোতে কোন আপোষ নাই, বছরের পর বছর যেন কেটে না যায়, দুই মাসের তিন মাসের মধ্যেই যেন কাজগুলো সম্পন্ন হয়।এটাই আমাদের মত জনগণের একমাত্র দাবি।
নেতৃদয় আরোও বলেছেন,আমাদের প্রিয় এই বাংলাদেশে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে হলে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির এই বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।যখন একজন সাধারণ মানুষ সামান্য অপরাধে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয়,তখন কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিবাজরা প্রশাসনিক শক্তির জোরে পার পেয়ে যাবে এমন দ্বিমুখী নীতি একটি স্বাধীন দেশে চলতে পারে না। প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও ঘুষের বিরুদ্ধে যদি এখনই রাষ্ট্র জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ না করে এবং বদলি নামক এই লোকদেখানো প্রহসন বন্ধ না করে,তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটাই বদলে যাবে।দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া মানে দেশের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।তাই আর কোনো অজুহাত বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নয়,দেশের আইনকে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে যেন কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ঘুষ বা দুর্নীতির সাথে ন্যূনতম জড়িত থাকলে তার ক্যারিয়ার সেখানেই চিরতরে শেষ হয়ে যায়। আসুন,আমরা দলমত নির্বিশেষে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই এবং দাবি তুলি,দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় নেই,বদলি বা পদোন্নতি নয়,তাদের একমাত্র স্থান হোক চাকরি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ।আমাদের নতুন সরকার চাচ্ছে দেশকে এবং জনগণের জন্য ভালো কিছু করে রেখে যেতে।উনি চাচ্ছে দেশে উদাহরণ সৃষ্টি করতে।
আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য, এই সরকারকে একটিবারের জন্য কি সাহায্য করতে পারি না?