কেশবপুরে সরকারি হাসপাতালে হাত ধোয়ার বেসিন হলো মেডিকেল বর্জ্যের ডাস্টবিন

শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক) : যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের হাত-মুখ ধোয়ার বেসিন হলো মেডিকেল বর্জ্য ফেলার ডাস্টবিন। রোগীর ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ওষুধের প্যাকেট ও খালি বোতল এবং স্যালাইনের প্যাকেট স্তূপে পরিনত হওয়ায় বেসিনটি সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে এই সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। হাত ধোয়ার বেসিন মেডিকেল বর্জ্যের ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করায় রোগীর ব্যবহৃত চিকিৎসা সামগ্রী থেকে মারাত্মক রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা পরিহার করে সঠিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা উচিত বলে মনে করেন সচেতন মহল।

গত ২৬ জুন (শুক্রবার) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বারান্দায় গ্রিলের পাশে থাকা একটি সাদা রঙের বেসিনটি বিভিন্ন প্রকার ব্যবহৃত চিকিৎসা সামগ্রীতে ঠাঁসা। সেখানে সরকারি ও বিভিন্ন নামী-দামী কোম্পানির ওষুধের খালি প্যাকেট, ইনজেকশনের অ্যাম্পুল, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের প্লাস্টিকের প্যাকেট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। বর্জ্যের ভারে বেসিনের পানির কলটি ঢাকা পড়ে গেছে এবং এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশে ডাস্টবিনের বক্স থাকলেও সেখানে বর্জ্য রাখা হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, হাত ধোয়ার বেসিনকে মেডিকেল বর্জ্যের ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা চরম স্বাস্থ্যবিধি পরিপন্থী ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।হাসপাতালের ভেতরে যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে প্রকাশ্য স্থানে মেডিকেল বর্জ্য ফেলে রাখায় স্বাস্থ্যসেবা

অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালে এসে রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে নতুন কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাস্টবিন বা নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য অপসারণ না করে রোগীদের ব্যবহারের বেসিনে এভাবে ওষুধ ও সিরিঞ্জের বর্জ্য স্তূপ করে রাখা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম (৪৫) নামের এক ভুক্তভোগী নারী রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গায়ে জ্বর নিয়ে ডাক্তার দেখাতে আসলাম। কিন্তু বেসিনের কাছে গিয়ে দেখি রক্তমাখা সিরিঞ্জ আর ওষুধের খোলায় ভরে গেছে এবং গন্ধ বের হচ্ছে। হাসপাতালই যদি নোংরা থাকে, তাহলে আমরা সুস্থ হবোই কীভাবে। এগুলো দেখার কি কেউ নেই?

শিশু সন্তানকে নিয়ে আসা এক অভিভাবক স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, বাচ্চারা তো অবুঝ, ওরা যেকোনো জায়গায় হাত দিতে পারে। এভাবে প্রকাশ্য স্থানে রোগীর ব্যবহৃত সিরিঞ্জ আর ওষুধের বোতল ফেলে রাখায় শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

হাসপাতালে ওষুধ নিতে আসা বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ (৬৭) বলেন, আমরা গরীব মানুষ, তাই বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালে আসতে হয়। কিন্তু ভেতরের এই নোংরা পরিবেশ দেখে খুবই খারাপ লাগে। হাত ধোয়ার বেসিনটাকে ডাস্টবিন বানিয়ে রাখা হয়েছে। তাহলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কী কাজ করে তা আল্লাহ-ই জানেন।

​এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: রেহেনেওয়াজ বলেন বেসিনের ভেতর মেডিকেল বর্জ্য স্তূপ করে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী। নিয়মানুযায়ী সমস্ত ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, অ্যাম্পুল ও ওষুধের কার্টন নির্দিষ্ট সেফটি বক্স বা ডাস্টবিনে ফেলার নিয়ম রয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত কোন শিফটের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবহেলার কারণে এমনটা ঘটেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বেসিনটি পরিষ্কার করে ব্যবহারের উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বরত কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরণের উদাসীনতার বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *