বেনাপোল বন্দরে অরাজকতা: শুল্ক ফাঁকির রহস্যময় পণ্য নিয়ে ধোঁয়াশায় কর্তৃপক্ষ

বেনাপোল প্রতিনিধি: দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারো রাজস্ব ফাঁকির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছেবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে ঘোষণা বহির্ভূত ১৯ কার্টন ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন গার্মেন্ট পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস ইনভেস্টিগেশন ¨vন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (আইআরএম) টিমসোমবার (১৩ জুলাই ) এই অভিযান পরিচালিত হলেও পুরো বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য

কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্ধারকৃত এই ১৯ কার্টন পণ্যের উৎস নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তিকাস্টমসের সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমানের দাবি, বৈধ কাগজপত্রহীন এই পণ্যগুলো অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে সুরক্ষিত শেডে প্রবেশ করেছেতিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে

অন্যদিকে, বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দাবি ভিন্ন৩৭ নম্বর শেডের ইনচার্জ আবুল খায়ের ও বন্দরের সহকারী পরিচালক রতন দাবি করেন, গত ১২ মার্চ সাফা ইমপেক্সনামে এক আমদানিকারকের ১০৮ কার্টন বেকিং পাউডারের আড়ালে আনা পণ্যের চালানে ৮৯ কার্টন জব্দ হলেও ১৯ কার্টন ঘাটতি ছিলতাদের ভাষ্যমতে, উদ্ধারকৃত ১৯ কার্টন সম্ভবত সেই পুরনো চালানেরই অংশ

তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন কাস্টমস সুপার জাহাঙ্গীর হোসেনতিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া পণ্যের সাথে আগের চালানের কোনো মিল নেইতার মতে, এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন চালান, যা অসাধু পন্থায় শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে শেডে ঢোকানো হয়েছেএমনকি এতে দেশি পণ্যকেও ভারতীয় হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন

স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, বন্দরের নিরাপত্তার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাণিজ্যে লিপ্তঅভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সাথে বন্দরের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে

বেনাপোল বন্দরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় বারবার এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও সচেতন নাগরিকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেনবন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং পরস্পরকে দোষারোপের এই প্রবণতা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছেসংশ্লিষ্টরা দ্রুত এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *