ডেক্স খবরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১০ই জানুয়ারী—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন দিন।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিত্ব শেষে বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বাধীন মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন।
এই প্রত্যাবর্তন ছিল কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, এটি ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বিজয়ের পূর্ণতা, বাধীনতার চূড়ান্ত স্বীকৃতি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন শত্রু রাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি, অথচ তাঁর আদর্শ ও নেতৃত্বই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার মূল উৎস।
তিনি অনুপস্থিত থেকেও ছিলেন উপস্থিত—প্রতিটি রণাঙ্গনে, প্রতিটি সংগ্রামে। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে জাতি ফিরে পায় তার অভিভাবককে, দিশেহারা রাষ্ট্র পায় তার পথপ্রদর্শককে।
এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—
স্বাধীনতা কেবল ভূখণ্ড নয়, এটি নেতৃত্ব, আদর্শ ও ত্যাগের ফসল জাতির সংকটে একজন সত্যিকারের নেতা কীভাবে ইতিহাসের দিশারি হন
বিজয় তখনই পূর্ণতা পায়, যখন জনগণ তাদের নেতাকে বুকে তুলে নিতে পারে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরপরই শুরু হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কঠিন অধ্যায়।
শূন্য কোষাগার, বিধ্বস্ত অবকাঠামো ও বিপর্যস্ত সমাজ—সবকিছুর মাঝেও তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন একটি শোষণমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার।
আজ এই দিনে আমাদের দায়িত্ব শুধু স্মরণ করা নয়, বরং তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে— ন্যায়, গণতন্ত্র, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে অবিচল থাকা।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আমাদের ইতিহাসের গৌরব, আমাদের অস্তিত্বের অহংকার।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০–১৯৭৫) ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধান নেতা এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি।
তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।