মোঃ মোকাররম হোসাইন ,জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ৫০ একর ব্লক প্রদর্শনীতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধানের চারা রোপণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
উপজেলায় রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বৃহস্পতিবার (৮ ফেরুয়ারী) বিকালে উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের কাথাইল গোপিনাথপুর গ্রামের মাঠে রাইস ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে চারা রোপণের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের আগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এতে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কৃষি অফিসার এনামুল হক।
অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কালাই উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ জুয়েল হোসেন, আহাম্মেদাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলী আকবর মন্ডল, জেলা কৃষি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান।
এ সময় প্রধান এনামুল হক অতিথি বলেন, সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে ধান রোপণ করলে প্রতি ঘণ্টায় ১ জন শ্রমিকের মাধ্যমে ১ বিঘা জমি চাষ করা যায়। এভাবে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টায় ৮ বিঘা জমি চাষ করলে খরচ ও অর্থে অপচয় কমে যাবে। সনাতন পদ্ধতিতে ৮ বিঘা জমিতে ৩৫ জন শ্রমিক লাগবে। খরচ তিনগুণ বেশি হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘সমলয়’ চাষের এক নতুন পদ্ধতি। সবাই মিলে একটি ব্লকে/মাঠে একসঙ্গে একই জাতের ধান একই সময়ে যন্ত্রের মাধ্যমে রোপণ করা হয়। বীজতলা থেকে কর্তন, সব প্রক্রিয়া যন্ত্রের সাহায্যে সমসময়ে সম্পাদন করা হয়। এ পদ্ধতিতে ধান আবাদ করতে হলে চারা তৈরি করতে হয় ট্রেতে। ট্রেতে চারা উৎপাদনে জমির অপচয় কম হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে চারা একই গভীরতায় সমানভাবে লাগানো যায়। কৃষক তার ফসল একত্রে মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পারে। একসঙ্গে চারা রোপণ করায় সব ধান পাকবেও একই সময়ে। তখন ধান কাটার মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে সব ধান কর্তন ও মাড়াই করা যাবে। এসব কারণে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষে সময়, শ্রম ও খরচ কম লাগবে। উৎপাদনও হবে বেশি। এতে লাভবান হবেন কৃষকেরা।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও কালাই উপজেলা অফিসার নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল হায়াত কৃষকদের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রতারিত না হওয়ার জন্য কৃষি অফিসারদের সাথে কথা বলে কীটনাশক ব্যাবহারের পরামর্শ প্রদান করেন।