কুইন্সে অগ্নিসংযোগে বেঁচে যাওয়া লিয়ামের আরেক জন্মদিন: সাহস ও আশার অনন্য গল্প

হাকিকুল ইসলাম খোকন, মো. নাসির, আমেরিকা : নিউইয়র্কের কুইন্সে ২০১৯ সালের ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশু লিয়াম ডমিঙ্গেজ রদ্রিগেজ আরও একটি জন্মদিন উদযাপন করেছে। উদ্ধারকারী এফডিএনওয়াই সদস্যদের সঙ্গে তার জন্মদিন পালন কেবল আনন্দের উপলক্ষ নয়—এটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডি পেরিয়ে জীবনের প্রতি তার অসাধারণ লড়াইয়ের প্রতীক।

২০১৯ সালের ১০ জুলাই ইস্ট এলমহর্স্টের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে লিয়ামের মা এলিজাবেথ রদ্রিগেজ, ছয় বছর বয়সী বোন এমা ডমিঙ্গেজ এবং নানা ক্লদিও রদ্রিগেজ মারা যান। আগুনের মধ্যে লিয়ামকে তার মায়ের শরীরের নিচে পাওয়া যায়। শেষ মুহূর্তে সন্তানকে আগুন থেকে রক্ষা করতে মা নিজের শরীর দিয়ে তাকে ঢেকে রেখেছিলেন।
সেসময় মাত্র ১০ মাস বয়সী লিয়ামের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসকেরা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এক শতাংশেরও কম বলে আশঙ্কা করেছিলেন। পরে তাকে টেক্সাসের গ্যালভেস্টনে শ্রাইনার্স হাসপাতালের শিশুদের বিশেষ বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা, একাধিক অস্ত্রোপচার, কৃত্রিম কোমা এবং পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তাকে এগোতে হয়েছে।
উদ্ধারকারীদের সঙ্গে গভীর বন্ধন
এফডিএনওয়াইয়ের ইঞ্জিন ৩১৬-এর অগ্নিনির্বাপক সদস্যরা আগুনের ঘটনাস্থল থেকে লিয়ামকে উদ্ধার করেছিলেন। সেই থেকে তাদের সঙ্গে লিয়াম ও তার পরিবারের একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ২০২১ সালে তারা লিয়ামের তৃতীয় জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন করেন; সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও এফডিএনওয়াই তার জন্মদিন উদযাপনের খবর প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালে এফডিএনওয়াই লিয়ামের সপ্তম জন্মদিন উদযাপনের কথাও জানায়।
লিয়ামের শারীরিক পুনরুদ্ধারের পথ সহজ ছিল না। গুরুতর দগ্ধ হওয়ার কারণে তার এক পা, অন্য পায়ের কিছু আঙুল এবং এক হাতের একটি আঙুল অপসারণ করতে হয়েছিল। তবুও প্রতিটি নতুন জন্মদিন তার দৃঢ়তা, পরিবারের ভালোবাসা এবং চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীদের নিষ্ঠার নতুন সাক্ষ্য হয়ে আছে।আশার প্রতীক লিয়ামের জীবন মনে করিয়ে দেয়—গভীরতম শোক এবং অকল্পনীয় বিপর্যয়ের মধ্যেও আশা টিকে থাকতে পারে। তার মা, বোন ও নানার মৃত্যু পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি; কিন্তু লিয়ামের প্রতিটি অগ্রগতি তাদের স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
এনজেবিডিনিউজ এডিটর ও নিউ জার্সি প্রবাসী সাংবাদিক মো. নাসির বাপসনিউজকে বলেন, “শুভ জন্মদিন, লিয়াম। তোমার জীবনের পথচলা সত্যিই এক অলৌকিক অনুপ্রেরণা। তোমার সাহস, শক্তি ও হাসি আমাদের সবাইকে জীবনের প্রতি আস্থা রাখতে শেখায়।”
লিয়ামের আগামী দিনগুলো সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ভালোবাসা এবং আনন্দময় মুহূর্তে ভরে উঠুক—এ প্রত্যাশা সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *