শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক)ঃ যশোরের কেশবপুরে মাহে ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্ব শান্তি, ন্যায় ও মানব কল্যাণের পথ প্রদর্শক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর জন্মদিন (ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী) উপলক্ষে হামদ/না’ত, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমির যৌথ আয়োজনে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন।
অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ নেওয়াজ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দিন আলা, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রভাষক জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন কেশবপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল মান্নান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) কেশবপুর প্রধান সমন্বয়ক সম্রাট হোসেন।
বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর দিনটি সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। আমাদের প্রিয় নবী ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩ বছর বয়সে একই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। মহানবীর আগমনের আগে আরব জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, যেখানে মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অনৈতিক কাজ ও বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত ছিল। মহান আল্লাহ সেই অন্ধকার নিমজ্জিত করতে মহানবীকে পৃথিবীতে পাঠান। আরব সমাজের অন্যায়, অবিচার, অসত্য ও অন্ধকার দূর করে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মানুষকে আলোর পথ দেখান এবং সত্য সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। মহানবী শান্তির ধর্ম ইসলাম ও শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তিনি ৪০ বছর বয়সে হেরা পর্বতের গুহায় নবুয়াত লাভ করেন।হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের জীবনের পথ প্রদর্শক। ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে তাঁর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।
বক্তারা আরও বলেন, পৃথিবীতে যখন নারীদের কোন সম্মান ছিলো না, সমাজ ব্যবস্থা ছিলো অত্যন্ত খারাপ তখনই মহানবীর আবির্ভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন মানুষ খুঁজে পেয়েছিলো আলোর দিশা। তাঁর সত্যের জ্যোতিতে বিশ্ববাসী হয়েছিলো উদ্ভাসিত। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে আমরা যদি চলতে পারি তাহলে সমাজ ব্যবস্থা আরো সুন্দর হবে। শিশুদের পবিত্র কুরআন ও হাদিস সম্পর্কে এবং ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। তারা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর আদর্শ মোতাবেক চলতে পারলে তাদের জীবন উন্নত হবে।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব শান্তি, ন্যায় ও মানব কল্যাণের পথ প্রদর্শক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা শিশু একাডেমি কর্মকর্তা বিমল কুমার কুন্ডু।
পরে হামদ/নাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির পলাশ, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বাবু,
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সভাপতি আলহাজ্ব রুহুল কুদ্দুস, প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াজেদ খান ডবলু, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আব্দুল হাই সিদ্দিক, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক শামীম আখতার মুকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হাসান নাঈম, নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ বুলবুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।