চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে ঘড় ছাড়া অভিযোগ বদলগাছি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ছানোয়ার হোসেন বদলগাছি (নওগাঁ) বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় চাঁদার পাঁচ লাখ টাকা না পেয়ে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাড়ি ও কীটনাশকের দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, এই বর্বরোচিত হামলার পর থেকে তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় গত প্রায় এক মাস ধরে তিনি নিজের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারছেন না।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৪৬) বাদী হয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওগাঁর বিজ্ঞ ৫ নম্বর আমলী আদালতে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর: ৩৯০/২০২৬)। মামলার প্রধান আসামি আব্দুল জলিল বদলগাছী উপজেলার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক বলে নিশ্চিত করেছেন বিলাসবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান কেটু।
মামলার আসামিরা হলেন:১. আব্দুল জলিল (৪৫), পিতা- মৃত আরজ আলী ২. রুবেল হোসেন (২৯), পিতা- মৃত আবুল হোসেন ৩. ফরিদ (৩০), পিতা- মোকলেছ ৪. ফারুক হোসেন (৩৮), পিতা- মৃত লাল মোহন ৫. সাহাদ আলী (২০), পিতা- ফারুক হোসেন।
অভিযুক্ত সবাই উপজেলার কানুপুর গ্রামের বাসিন্দা।
দীর্ঘদিনের হয়রানি ও চাঁদা দাবির বিবরণ
মামলার এজাহার ও বাদীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কানুপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘ ১৬ বছর প্রবাসে থাকার পর ২০২২ সালে দেশে ফেরেন। এরপর নিজ জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করে তার একটি অংশে কীটনাশকের ব্যবসা শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ি নির্মাণের সময় থেকেই বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় জাহাঙ্গীর আলমের কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তার জমিতে ধান নিড়ানি ও কীটনাশক প্রয়োগেও নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হতো।
পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয় গত ১২ সেপ্টেম্বর। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরের দোকানের এক কর্মচারী মোটরসাইকেলে পণ্য কিনতে গেলে চকনদীকূল (মোহনপুর) বাজার এলাকায় আসামিরা তাকে আটকে দেয়। পরে মোটরসাইকেলটি জিম্মি রেখে চাঁদার টাকার জন্য তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরের ছেলে এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তা নিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন।
হামলা, লুটপাট ও ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে চড়াও হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা জাহাঙ্গীর আলমকে বেধড়ক মারধর করে এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে ঘরে আটকে রেখে ক্যাশবাক্সের চাবি ছিনিয়ে নেয়। এরপর ক্যাশ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ কীটনাশক লুটপাটসহ বাড়ি ও দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
আদালতে দাখিলকৃত এজাহার অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ কীটনাশক: ৩ কাটুন কুইন প্লাস (১ লাখ টাকা), ৫ কাটুন নীল প্লাস (৬০ হাজার টাকা), ৩ কাটুন জেনিলাস (৪০ হাজার টাকা), ৫ কাটুন জেনিজেল (১ লাখ টাকা) এবং ১ কাটুন সিলেকশন (১০ হাজার টাকা)।
অবকাঠামোগত ক্ষতি: ৪টি জানালা ভাঙচুর (১ লাখ টাকা), দোকানের শাটার (৬০ হাজার টাকা), ৩টি র‌্যাক/সেলফ (১ লাখ টাকা) এবং অন্যান্য মালামাল (১ লাখ টাকা)।
নগদ অর্থ: ক্যাশ বাক্স থেকে ৩০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি বাদীর।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা, আবুল কালাম ও বনি সহ ২০/৩০ জন প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ও দোকানে জলিল সহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। তারা মালামাল লুট করে জাহাঙ্গীরকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই ভয়ে প্রায় এক মাস ধরে তিনি এলাকাছাড়া হয়ে আছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম আক্ষেপ করে বলেন, “হামলার সময় ফোন করা হলে বদলগাছী থানার এসআই কুদ্দুস ঘটনাস্থলে এসে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু এরপর থেকেই আসামিদের ভয়ে আমি এলাকাছাড়া। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে বাড়ি ও দোকানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে আমি অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিজের জানমালের নিরাপত্তা চাই।
অভিযুক্ত মামলার ৫ নম্বর আসামি সাহাদ আলী হামলার কথা আংশিক স্বীকার করে বলেন, “আমার চাচাকে তার বাড়ির ছাদ থেকে ইট ছুড়ে মারা হয়েছিল, তাই আমরা হামলা চালিয়েছি। তবে দোকানের মালামাল লুট করার বিষয়টি সত্য নয়।” মোটরসাইকেল জিম্মি করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বীকার করে বলেন, “মোটরসাইকেলটি আমাদের কাছেই ছিল, কিছুক্ষণ পর একজন পুলিশ এসে সেটি নিয়ে গেছেন।”
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনা চাঁদা দাবি, হামলা ও লুটপাটের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন প্রধান অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল।
এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও জোর আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

hacklink satın al · casibom · casibom · casibom · marsbahis · marsbahis · marsbahis · marsbahis · holiganbet · holiganbet · kingroyal · kingroyal · meritking · meritking · meritking · meritking · klasbahis · klasbahis · makrobet · makrobet · mrbahis · mrbahis · nerobet · nerobet · ngsbahis · ngsbahis · redwin · redwin · restbet · restbet · holiganbet · holiganbet · holiganbet · holiganbet · jojobet · jojobet · lunabet · lunabet · lunabet · lunabet · savoybetting · savoybetting · jojobet · verabet · verabet · ibizabet · ibizabet · padişahbet · padişahbet · betlike · betlike · betmatik · betmatik · hiltonbet · hiltonbet · hiltonbet · casinoroyal · casinoroyal · enjoybet · enjoybet · tophillbet · tophillbet · tophillbet · timebet · timebet · betasus · betasus · betzula · betzula · betzula · enbet · enbet · extrabet · extrabet · betnamo · betnamo · betparibu · betparibu · galabet · galabet · ultrabet · ultrabet · süpertotobet · süpertotobet · ibizabet · ibizabet · piabellacasino · piabellacasino · norabahis · norabahis · candycasino · candycasino · teosbet · teosbet · matbet · matbet · holiganbet · holiganbet · grandpashabet · grandpashabet · virüsbet · virusbet · virusbet · virusbet · virusbet · virüsbet · grandpashabet · grandpashabet · 1xbet · 1xbet · bahsegel · bahsegel · tümbet · tümbet · xslot · xslot · tarafbet · tarafbet · meritking · meritking · meritking · meritking · holiganbet · holiganbet · marsbahis · marsbahis · grandpashabet · grandpashabet · matbet · matbet · matbet · grandpashabet · grandpashabet · marsbahis · marsbahis · holiganbet · holiganbet · meritking · meritking · meritking · meritking · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · virüsbet · virüsbet · 1xbet · bahsegel · tümbet · tümbet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · jojobet · jojobet · ultrabet · ultrabet · norabahis · norabahis · bahiscasino · bahiscasino · grandpashabet · grandpashabet · matbet · matbet · holiganbet · holiganbet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · grandpashabet · jojobet · jojobet · jojobet · jojobet · jojobet · jojobet · jojobet · jojobet · jojobet · norabahis · norabahis · norabahis · bahiscasino · bahiscasino · bahiscasino · bahiscasino · bahiscasino · bahiscasino · bahiscasino · bahiscasino · bahiscasino · ultrabet · ultrabet · ultrabet · ultrabet · ultrabet · ultrabet · ultrabet · ultrabet · ultrabet · ultrabet · ultrabet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · matbet · 1xbet · 1xbet · 1xbet · 1xbet · 1xbet · 1xbet · 1xbet · 1xbet · 1xbet · 1xbet · tarafbet · tarafbet · tarafbet · tarafbet · tümbet · tümbet · tümbet · tümbet · tümbet · tümbet · xslot · xslot · xslot · xslot · xslot · xslot · xslot · xslot · virüsbet · virüsbet · virüsbet · virüsbet · tarafbet · tarafbet · virüsbet · virüsbet · virüsbet · virüsbet · xslot · xslot · xslot · marsbahis · marsbahis · marsbahis · marsbahis · marsbahis · marsbahis · marsbahis · marsbahis · marsbahis · piabellacasino · marsbahis · piabellacasino · piabellacasino · piabellacasino · süpertotobet · süpertotobet · süpertotobet · süpertotobet · süpertotobet · süpertotobet