বেনাপোল প্রতিনিধি: নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনের ভিতর চুরি হয়েছে। পরবর্তীতে চুরি হওয়া পণ্য উদ্ধার হলেও চোরকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সোমবার ভোরে এ চুরির ঘটনাটি ঘটে।
আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল যেখানে কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। তাদের নজর এড়িয়ে এবং সুউচ্চ সীমানা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে কীভাবে চোর ভেতরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই ঘটনার পেছনে কাস্টমস বা আনসার বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত আছেন কি না, সে প্রশ্নও উঠে আসছে। কারণ এর আগেও কাস্টমসের স্বর্ণ চুরি এবং ট্রাকভর্তি পণ্য চুরির ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।
ওই ঘটনায় এআরও ইন্দ্রজিৎ জেলে যান এবং শামীমা সুলতানা নামে এক রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে জেলহাজতে প্রবেশ করেন।
এছাড়া বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস থেকে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক রেখে দেওয়া পণ্য রাতের আঁধারে বের করে নেওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে দীর্ঘদিনের। এসব অপকর্মের সাথে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও সিপাহীরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার কাস্টমস চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই সাজানো চোর দিয়ে পণ্য বের করা হচ্ছিল। তবে বিষয়টি দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্যের জানা না থাকায় তিনি ওই পণ্য আটকে দেন, কিন্তু চোরকে ধরতে পারেননি।
একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি বেনাপোল চেকপোস্টে যোগদানকারী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন।
চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে চেকপোস্টের বর্তমান রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, “চুরির বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। আপনারা কাস্টমস হাউসে গিয়ে কমিশনার সাহেবের সাথে আলাপ করেন।”
বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে বাংলাদেশী একাধিক ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীরা বলেন বেনাপোল চেকপোষ্টে মিজানুর রহমান নামে একজন এ আরও খুব হয়রানি করে। তিনি ল্যাগেজ দেখলে তা খোলা এবং তাদের আইনের মধ্যে বৈধ পণ্য থাকলেও রেখে দেয়। খুব খারাপ ব্যবহার করেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।
বিষয়টি মিজানুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে রাজী নয় বলে জানান।