বদলগাছীতে ডিলার প্রত্যাশি ও প্রশাসনের রশি টানাটানিতে উপকার ভোগীদের ভোগান্তি

আবু সাইদ বদলগাছীঃ নওগাঁর বদলগাছীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১৫ টাকা কেজি চালের ডিলার নিয়োগ কে কেন্দ্র করে দির্ঘ্য প্রায় ১ মাস যাবৎ ডিলার প্রত্যাশি ও স্থানীয় প্রশাসনের রশি টানাটানির ফলে উপকার ভোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। আর এই ভোগান্তি শুরু হয়েছে চলতি বছর সেপ্টম্বর মাস থেকে। গত সেপ্টম্বর মাসে ডিলারেরা ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সাবরিন মোস্তারীর রোশানলে পরে ওই মাসের ১০/১৫ তারিখের চাল বিতরণ করা হয় ৩০ ও ৩১ শে সেপ্টম্বর। তার পর পূর্বের ডিলারদের বিরুদ্ধে ভ‚য়া অভিযোগ তুলে তাদের ডিলারশিপ বাতিল করেন অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে। এর মধ্যে ১৪ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রাণালয় কর্তৃক নতুন নীতিমালা-২০২৪ প্রকাশ হয়। নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সাবরিন মোস্তারী অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ২ জন করে মোট ১৬ জন ডিলার নিয়োগের আবেদন আহŸান করে তার কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে নোটিশ ঝুলিয়ে দেন। উক্ত নোটিশে নতুন ডিলার প্রত্যাশিদের আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২১ অক্টোবর বিকেল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত। উক্ত সময়ের মধ্যে ডিলার প্রাপ্তির জন্য মোট ৬৬ টি আবেদন জমা হয়। উক্ত আবেদন গুলি যাচাই-বাছাই অন্তে প্রাথমিক ভাবে ২৭ জনের আবেদন বাতিল হয়। আর ৩৯ জনের আবেদন বৈধতা পায়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে ২ জন ডিলার নেওয়া হবে। ২ জনের অধিক ডিলার প্রত্যাশি থাকলে লটারির মাধ্যমে ২ জন ডিলার নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সাবরিন মোস্তারী কমিটিকে তোয়াক্কা না করে তার পচ্ছন্দের লোকদের বেছে নিয়ে ১৫ জন ডিলারের নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করেন গত ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায়। পরের দিন তালিকা দেখে অন্যান্য ডিলার প্রত্যাশিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। ফলে আবার ডিলার নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে। এর মাঝে ১৪ নভেম্বর জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা রাতের অন্ধ্যকারে ডিলার নিয়োগ বাতিল চেয়ে ইউএনও,র কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইউএনও মাহবুব হাসান আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে কথা বলে উক্ত নিয়োগ বাতিলের আশ্বাস দিলে ছাত্ররা আন্দোলন স্থগিত করেন। অদ্য রবিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডিলার নিয়োগের কোন সঠিক সিদ্ধ্যান্তে পৌঁছিতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। আর এই কারনে গত মাস অক্টোবর ও চলতি নভেম্বর মাসের ১৭ দিন অতিবাহিত হলে ও উপকার ভোগীরা কোন চাল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন।

তেজাপাড়া গ্রামের উপকার ভোগী নন্দলাল, ডাঙ্গিসাড়া গ্রামের গজিমদ্দীন, কাদিবাড়ী গ্রামের বয়তুল সহ অনেক উপকার ভোগীরা জানিয়েছেন, যে তারা প্রতি মাসের ১০/১২ তারিখের মধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১৫ টাকা কেজি ধরের চাল তারা পেয়ে যেতেন। কিন্তু অফিস ও ডিলারদের মধ্যে রশি টানাটানির জন্য আমরা সরকারের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের আমন ধান ঘরে তুলতে আর ও ১৫ দিন থেকে ১ মাস সময় লাগবে। ততদিন আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খায়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সাবরিন মোস্তারির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করার পর গত বৃহস্প্রতিবারে যে ঝামেলা দেখা দিয়েছে তা আমি জেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠিয়েছি। জেলা প্রশাসক স্যার যে সিদ্ধ্যান্ত দিবে সেটাই কার্যকর করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *